নিট কাণ্ড: অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির জেরে শিক্ষা মন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা সচিব পদ থেকে সরলেন বিনীত যোশী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশজুড়ে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ও ব্যাপক অনিয়ম নিয়ে যখন ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন, ঠিক সেই সময়ই বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল করল কেন্দ্র। শিক্ষা মন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা সচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল বিনীত যোশীকে। তবে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়নি; শিক্ষা মন্ত্রক থেকে সরিয়ে তাঁর নতুন পোস্টিং করা হয়েছে পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রকে।
বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্রছাত্রীদের লাগাতার আন্দোলন এবং বিরোধী দলগুলির ক্রমাগত চাপে কিছুটা হলেও কোণঠাসা কেন্দ্রীয় সরকার। এমন পরিস্থিতিতে এই রদবদল কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা।
বিনীত যোশীর অপসারণ কেন সাধারণ রদবদল নয়?
বিনীত যোশী ১৯৯২ ব্যাচের আইআইটি কানপুরের এক অত্যন্ত অভিজ্ঞ আইএএস অফিসার। তিনি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র প্রথম মহাপরিচালক, সিবিএসই (CBSE)-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং উচ্চশিক্ষা সচিবের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্ব সামলেছেন। বর্তমান প্রশ্নবিদ্ধ পরীক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত শীর্ষ আধিকারিকদের মধ্যে তাঁকে অন্যতম ধরা হয়। ফলস্বরূপ, তাঁর এই অপসারণকে নিছক রুটিন প্রশাসনিক বদলি হিসেবে দেখতে নারাজ রাজনৈতিক ও শিক্ষা মহলের একটা বড় অংশ।
ছাত্র আন্দোলন ও মূল প্রশ্ন: কাঠামোগত সংস্কার চাই
সিজেপি (CJP)-র ব্যানারে আন্দোলনরত পড়ুয়া ও যুবসমাজ শুধু কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিই তুলছেন না, বরং তাঁরা দেশের গোটা শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, কেবল একজন মন্ত্রী বা শীর্ষ আধিকারিককে বদলি করলেই এই গভীর সংকটের সমাধান হবে না; বরং গোটা পরীক্ষাপদ্ধতিকে স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং সম্পূর্ণ জবাবদিহিমূলক করতে হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা কি কেবল নির্দিষ্ট কোনো আধিকারিকের ব্যর্থতা? বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় প্রশ্নপত্র তৈরি, মুদ্রণ, নিরাপদ পরিবহন, কেন্দ্র পরিচালনা, ডিজিটাল সুরক্ষা এবং স্থানীয় নজরদারির মতো একাধিক স্তর জড়িত থাকে। তাই শুধুমাত্র শীর্ষ স্তরে মুখ বদল করলেই ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করা সম্ভব নয়।
কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে নতুন সচিব নরেশ পাল গাঙ্গোয়ার
বিনীত যোশীর স্থलाभिषিক্ত হয়েছেন ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার নরেশ পাল গাঙ্গোয়ার। তাঁকে নতুন উচ্চশিক্ষা সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তবে এই দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর সামনে রয়েছে একাধিক কঠিন চ্যালেঞ্জ:
- প্রশাসনিক কাজকর্ম দ্রুত স্বাভাবিক করা।
- দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর থেকে হারিয়ে যাওয়া আস্থা পুনরুদ্ধার করা।
উল্লেখ্য, পরীক্ষার বিতর্ক নিয়ে কেন্দ্রের এই ধরনের প্রশাসনিক রদবদল নতুন নয়। অতীতে সিবিএসই পরীক্ষার ফলাফল ও পদ্ধতি নিয়ে দেশজুড়ে ছাত্র-অভিভাবকদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শীর্ষ আধিকারিকদের বদল করেছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— এই পদক্ষেপ কি শুধুই মুখ বদলের খেলায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি পরীক্ষা ব্যবস্থার গভীর কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটবে? বিগত কয়েক বছরে একের পর এক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রমাণ করে যে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এক গভীর কাঠামোগত সংকট।
