‘সেবাশ্রয়ের নামে চরম স্ক্যাম!’ বিধানসভায় বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করে অভিষেককে কড়া নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
‘সেবাশ্রয়’ শিবির ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য বিধানসভা। সেবাশ্রয় নিয়ে ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগের মাঝেই সরাসরি তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ ও কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে তিনি একে একটি বিরাট মাপের কেলেঙ্কারি বলে উল্লেখ করেছেন এবং এর পেছনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “চিটিংবাজ ভাইপোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।” সেবাশ্রয় শিবিরকে কেন্দ্র করে যে সমস্ত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে, তার একটি বিস্তারিত বিবরণ তিনি বিধানসভায় পেশ করেন এবং একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ছবি ও নথি তুলে ধরে বড় দাবি করেন। তিনি জানান, এটি স্রেফ সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা নয়, একটি বিশাল বড় স্ক্যাম। ইতিমধ্যে বিষ্ণুপুর থানায় সেবাশ্রয় শিবিরকে কেন্দ্র করে বহু লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে, যার ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত শুরু হয়েছে।
চিকিৎসার নামে প্রহসন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য: বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সেবাশ্রয় শিবিরের কারবার নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আলট্রাসোনোগ্রাফি বাইরে নিয়ে গেছে, ডাক্তারকে বাইরে নিয়ে গেছে। মেডিকেল কলেজের ছাত্র চিকিৎসা করতে পারবে? এ একবার ঢুকলে আর বেরোতে পারবে না, কেউ বাঁচাতে পারবে না। মেশিন সিজ করা হয়েছে। দিলীপ মণ্ডলের কাছ থেকে যে সমস্ত ওষুধ পাওয়া গেছে, সেগুলোর এক্সপায়ারি ডেট অর্থাৎ মেয়াদ আগেই পার হয়ে গেছে। একজন ডাক্তার, রাজীব বিশ্বাস, এ বিষয়ে চিঠিও দিয়েছেন।”
এসটিএফ ও সিআইডি তদন্তের নির্দেশ: এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এফআইআর দায়ের হওয়ার পর স্বাস্থ্য সচিব অজিত কুমার মোহান্তি এবং এ.কে বালাসুব্রমণিয়ামের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনার তদন্তে এসটিএফ (STF), সিআইডি (CID), দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ এবং মেডিক্যাল এক্সপার্টদের নিয়ে যৌথভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। আইনের কড়া অনুশাসন মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ভাইপো ও তাঁর সাগরেদদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
