কলকাতায় ককরোচ বিক্ষোভ ও পুলিশি পদক্ষেপ, প্রতীক উরকে তীব্র কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
একসময়ের বামপন্থী ছাত্রনেতা তথা বিভিন্ন গণআন্দোলনের মুখ প্রতীক উর রহমান দীর্ঘদিন নিট প্রশ্নফাঁস বা জেন-জি আন্দোলন নিয়ে নীরব থাকলেও, কলকাতায় ককরোচদের আন্দোলন ও বিশৃঙ্খলা রুখতে পুলিশের কড়া পদক্ষেপের পরই হঠাৎ সোচ্চার হয়েছেন। ধর্মতলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পরই তাঁকে একহাত নিয়েছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
প্রতীক উরের ফেসবুক পোস্ট ও বিতর্ক
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রতীক উর লেখেন, ‘ধর্মতলায় ছাত্রদের উপর পুলিশি জুলুম ও লাঠিচার্জকে তীব্র ধিক্কার জানাই।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর শোরগোল।
খবর অনুযায়ী, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার আবহে শুক্রবার কলকাতার মাটিতেও তার প্রভাব পড়ে। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল, যেখানে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিরাও পা মেলান। অভিযোগ, সেই মিছিলে কিছু সমাজবিরোধীর উপস্থিতি ও বিশৃঙ্খলার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ধর্মতলায় পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও জুতো ছোড়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও নিগ্রহ করা হয়। অশান্তি থামাতে বাধ্য হয়েই পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ করে। আর ঠিক সেই ঘটনার পরই পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন প্রতীক উর।
দিলীপ ঘোষের কড়া আক্রমণ
প্রতীক উরের এই পোস্টের পরই তাঁকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “অত বড় নেতা, এত বড় ছাত্র আন্দোলনে প্রথমে যাননি কেন? এখন এ পার্টি ও পার্টি করে বেড়াচ্ছেন। যে পার্টিতে যাচ্ছেন সেই পার্টিই ডুবে যাচ্ছে, আর ছাত্র আন্দোলনকে আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন প্রতীক।” একই সঙ্গে দিলীপবাবু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুলিশ আইন অনুযায়ী সঠিক পদক্ষেপই করেছে এবং আইনের বাইরে কেউ গেলে প্রশাসন চুপ থাকবে না।
উল্লেখ্য, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন প্রতীক উর রহমান। ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল কার্যালয়ে তাঁর হাতে ঘাসফুল পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে বিধানসভা ভোটের পর থেকে রাজনৈতিক মহলে তাঁকে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ও চুপচাপ থাকতে দেখা গিয়েছে।
