‘হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ঘুরিয়ে তবে ছাড়ুন!’ পুলিশের ওপর ভরসা না রেখে কড়া নিদান শমীকের, পালটা তোপ কুণালের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে ফের রাজনৈতিক পারদ চড়ল ‘আজাদি’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে। রাজ্যে নতুন করে চরমপন্থা মাথাচাড়া দিচ্ছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর পরিষ্কার হুঁশিয়ারি, রাস্তায় প্রকাশ্যে ভারত ভাগ বা কাশ্মীর বিচ্ছিন্নতার পক্ষে স্লোগান দিলে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশের উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা, এমন স্লোগানদাতাদের এমনভাবে শায়েস্তা করা হোক, যাতে তারা সোজা হয়ে বাড়ি ফিরতে না পারে। আর শমীকের এই মন্তব্য ঘিরেই তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।
শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য ও ক্ষোভ
রবিবার কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে কলকাতার বিটি রোডে শহিদ কণাদ ভট্টাচার্যকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন শমীক ভট্টাচার্য। গত শুক্রবার নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে কলকাতার রাজপথে বেরনো মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কিছু অপ্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক শক্তি ‘আজাদির’ স্লোগান তুলে ফের প্রাসঙ্গিক হওয়ার চেষ্টা করছে এবং সেই মিছিলেই পুলিশ ও সাংবাদিকরা আক্রান্ত হয়েছেন।
শমীকের দাবি, রাজ্যে নতুন করে চরমপন্থার প্রবণতা বাড়ছে, যেখানে একাংশ পুলিশকে আক্রমণ করছে এবং ৩৭০ ধারা বাতিলের বিরোধিতা করছে। তাঁর হুঁশিয়ারি, পশ্চিমবঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে বিশ্বাসী শক্তি রয়েছে, তাই কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত অখণ্ড ভারতের স্বপ্নে আঘাত হানার এই অপচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজন হলে অভিযুক্তদের হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ঘুরিয়ে তবে বাড়ি পাঠানো উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদের হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও টেনে আনেন বিজেপি সভাপতি।
কুণাল ঘোষের তীব্র প্রতিক্রিয়া
তবে শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করতে বিন্দুমাত্র সময় নেননি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতা হিসেবে শমীক এ ধরনের বেআইনি নিদান দিতে পারেন না। দেশবিরোধী স্লোগান উঠলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, কিন্তু কাউকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠানোর নিদান দেওয়া মানে সরাসরি অরাজকতাকে উস্কে দেওয়া। কুণাল বলেন, ভারতে থেকে ভারতের বিরুদ্ধে স্লোগান সমর্থনযোগ্য নয়, তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কাউকেই দেওয়া হয়নি। এটি একটি গণতান্ত্রিক দেশ, তাই পুলিশ ও আদালতের মাধ্যমেই সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ধর্মতলার অশান্তি ও বর্তমান পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলের পর ছাত্র-যুবদের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল ধর্মতলা চত্বর ও ডোরিনা ক্রসিং। সেই রাতেই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ নতুন গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করে ধরপাকড় শুরু করে। এবার সেই একই ইস্যুতে শমীক ভট্টাচার্যের কড়া হুঙ্কার এবং কুণাল ঘোষের পালটা অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে।
