নিট আন্দোলনের জেরে কি পদত্যাগ? ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নিয়ে ফাঁস হল আসল কারণ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
NEET প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? সরকারি সূত্রের দাবি, আন্দোলনের চাপে এর আগেও দু’বার ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন তিনি।
কেন প্রথমে পদত্যাগ গ্রহণ করা হয়নি?
সূত্রের খবর, ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত শীর্ষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রথমবার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু সেই সময় নেতৃত্ব তা নাকচ করে দিয়েছিল। শীর্ষ নেতাদের মত ছিল, মন্ত্রীর পদত্যাগ হলো সবচেয়ে সহজ পথ বা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার শামিল। বরং তাঁকে পদে রেখেই শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার সমাধান ও সংস্কারের পথ প্রশস্ত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল।
তাহলে হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত?
পরিস্থিতি বদলায় যখন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর ওই সংগঠনটি ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির মতো আরও একটি বড় মিছিলের হুঁশিয়ারি দেয়। ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বহু ছাত্র আহত হওয়ায় সরকার আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিল। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দেওয়া রিপোর্ট পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
- বিদেশি যোগ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি: ডিজিটাল নজরদারিতে ৪০০-রও বেশি সন্দেহজনক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছিল এবং তারা ভারতে ছাত্র আন্দোলনকে উস্কে দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, এই অ্যাকাউন্টগুলি এর আগে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালেও ভারতবিরোধী প্রচার ও ভুয়ো তথ্য ছড়িয়েছিল।
- অপরাধীদের উপস্থিতি: দিল্লি পুলিশের ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমের তথ্যানুযায়ী, গত ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে যন্তর মন্তরের আশপাশে প্রায় ৪০০ জন অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। এদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ২০ জুলাইয়ের ভাঙচুরের ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকার প্রমাণ মেলে।
জাতীয় স্বার্থ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে, যন্তর মন্তর এলাকার উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং আন্দোলনকে আরও ছড়িয়ে পড়া আটকাতেই শেষ পর্যন্ত ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয় বলে সরকারি সূত্রে খবর।
