কম ঘুমেই ডেকে আনছেন মারণ ক্যানসার! চিকিৎসকদের এই মারাত্মক সতর্কবার্তা না শুনলে পস্তাবেন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় ঘুম যেন ধীরে ধীরে একটি বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। রাতের পর রাত জেগে অফিসের কাজ করা, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করা কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ওয়েব সিরিজ দেখার নেশায় অনেকেই নিজের ঘুমের বারোটা বাজাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের ধারণা, বয়স বাড়লে কিংবা কাজের চাপে কম ঘুমানো খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।
কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং বিশ্বখ্যাত স্বাস্থ্য গবেষণা কেন্দ্রগুলির সাম্প্রতিক সমীক্ষা এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছে। চিকিৎসকরা স্পষ্টভাবে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কেবল ক্লান্তি বা অবসাদই তৈরি করে না, বরং এটি আমাদের শরীরে ক্যানসারের মতো মারাত্মক ও প্রাণঘাতী রোগ ডেকে আনার অন্যতম প্রধান অনুঘটক।
কম ঘুম কীভাবে ক্যানসারের পথ প্রশস্ত করে?
চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, গভীর ঘুমের সময় মানবশরীর এবং মস্তিষ্ক এক ধরনের অভ্যন্তরীণ মেরামতের কাজ বা ‘রিপেয়ারিং প্রসেস’ পরিচালনা করে। এই সময়ে শরীর কোষে জমে থাকা ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদানগুলি ফিল্টার করে বের করে দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তোলে।
কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে রাতে পর্যাপ্ত বা মানসম্মত ঘুম থেকে বঞ্চিত হলে শরীরের ভেতরের হরমোনের ভারসাম্য ভেঙে পড়ে এবং ডিএনএ বা কোষের স্বাভাবিক বিভাজন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে শরীরে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি ঘটতে শুরু করে, যা পরবর্তীতে মারণ ক্যানসারের রূপ নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে স্তন ক্যানসার, কোলন ক্যানসার এবং প্রোস্টেট ক্যানসারের মতো জটিল রোগগুলির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের অনিয়মের গভীর যোগসূত্র রয়েছে।
মেলাটোনিন হরমোনের ঘাটতি
অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে শরীরের ‘মেলাটোনিন’ (Melatonin) নামক হরমোনের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। মেলাটোনিন হলো এমন একটি প্রাকৃতিক হরমোন যা আমাদের ঘুম নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি শরীরের ক্যানসার প্রতিরোধী কোষগুলিকে সক্রিয় রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। রাতের পর রাত কৃত্রিম আলো বা স্ক্রিনের সামনে জেগে থাকার কারণে যখন মেলাটোনিনের মাত্রা কমতে থাকে, তখন শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ক্যানসারের মতো মারণ রোগ সহজে আক্রমণ করার সুযোগ পায়।
সুস্থ থাকার উপায়
সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে এবং এই সর্বনাশা রোগের হাত থেকে বাঁচতে আজ থেকেই আপনার রাতের রুটিনে পরিবর্তন আনুন। প্রতিদিন রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করুন। মনে রাখবেন, ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আপনার জীবন বাঁচানোর অত্যন্ত অপরিহার্য চাবিকাঠি।
