লাইক-ভিউতেই কি বন্দি জেন-জির আত্মমর্যাদা? চাঞ্চল্যকর তথ্য গবেষণায়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সোশ্যাল মিডিয়ায় মনের মতো লাইক কিংবা কমেন্ট না পেলে তীব্র উদ্বেগ, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া এবং একাকীত্বে ভুগছেন আজকের তরুণী প্রজন্ম। রাজস্থানের কোটার গভর্নমেন্ট আর্টস গার্লস কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জ্যোতি সিদানার এক সাম্প্রতিক গবেষণায় জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যের এই উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। ১৪১ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রীর ওপর ২৫ দিন ধরে চালানো এই সমীক্ষাটি ডিজিটাল জগতের ক্ষতিকর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবকে স্পষ্ট করেছে।
সমীক্ষায় উঠে আসা মূল পরিসংখ্যান:
- শো-অফ সংস্কৃতি: ৪৩.৯% ছাত্রী মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়া মূলত লোকদেখানোপনা বা কৃত্রিম জীবনযাপনকে উৎসাহিত করছে।
- স্বকীয়তার সংকট: ৪১.৫% উত্তরদাতার মতে, এই ডিজিটাল নির্ভরতা তাঁদের আসল পরিচয় বা ব্যক্তিত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
- অহেতুক খরচ: ১৪.৬% ছাত্রী জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে অপ্রয়োজনীয় ও অপচয়মূলক খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
ট্রোলিং ও ‘পারফেক্ট’ ইমেজের চাপ: অনলাইনে সবসময় একটি নিখুঁত ভাবমূর্তি (Perfect Image) বজায় রাখার তাগিদ তরুণীদের আত্মবিশ্বাসের ভিত নড়িয়ে দিচ্ছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬১% তরুণী সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো নেতিবাচক মন্তব্য বা ট্রোলিংয়ের শিকার হলে চরম মানসিক চাপ ও বিরক্তির মুখোমুখি হন। তবে বাকি ৩৯% ছাত্রী জানিয়েছেন, এ ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য তাঁদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
বিশেষজ্ঞের সতর্কতা ও উত্তরণের উপায়: ইন্টারনেটের সাথে বেড়ে ওঠা প্রথম ‘ডিজিটাল নেটিভ’ প্রজন্ম হিসেবে জেন-জি প্রযুক্তির সুবিধা পেলেও তীব্র একাকীত্ব, তুলনা করার প্রবণতা ও ডিজিটাল আসক্তির শিকার হচ্ছে। অধ্যাপক ড. জ্যোতি সিদানার মতে, সময় থাকতে ডিজিটাল ভারসাম্য বজায় না রাখলে এর পরিণতি তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদে আরও মারাত্মক হতে পারে।
এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য গবেষকরা ৩টি মূল পরামর্শ দিয়েছেন:
- ডিজিটাল ডিটক্স: নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা।
- বাস্তব যোগাযোগ বৃদ্ধি: স্ক্রিনের পেছনের ভার্চুয়াল জগতের বাইরে এসে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে মুখোমুখি সময় কাটানো।
- আত্মমূল্যায়ন বদলানো: লাইক, ভিউ বা ফলোয়ারের সংখ্যা দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত মান বা যোগ্যতা বিচার করা বন্ধ করা।
মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের মূল ভিত্তি হলো বাস্তব জীবনের সম্পর্কের উষ্ণতা। স্ক্রিনের কৃত্রিম লাইক-কমেন্ট কখনোই দীর্ঘমেয়াদী আবেগগত সমর্থন জোগাতে পারে না।
