“সংসদে এমন ভাষা প্রত্যাশিত নয়!” রাহুলের ‘ইডিয়টস’ মন্তব্যে শমীকের তোপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লোকসভায় প্রশ্নফাঁসরোধী বিল (পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট সংশোধনী বিল) সংক্রান্ত আলোচনা চলাকালীন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘ইডিয়টস’ ও ‘অন্ধভক্ত’ শব্দ প্রয়োগ করার অভিযোগে রাহুলের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির মতে, বিরোধী দলনেতার এমন শব্দচয়ন সুস্থ গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তাঁর নিঃশর্ত ক্ষমার দাবি তোলার পাশাপাশি এ নিয়ে রাহুল গান্ধীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
সংসদে ঠিক কী ঘটেছিল? বুধবার সংসদে ঐতিহাসিক প্রশ্নফাঁসরোধী বিল পাশের সময় বক্তব্য রাখার সুযোগ পান বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এক পড়ুয়ার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে কথা বলার সময় তিনি ‘ইডিয়টস’ (Idiots) ও ‘অন্ধভক্ত’ শব্দ দুটি ব্যবহার করেন এবং আরএসএস ও কেন্দ্র সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। রাহুলের মুখ থেকে এই মন্তব্য শোোনামাত্রই লোকসভার ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ শাসকদলের অন্য নেতারাও এই ভাষাকে ‘অসংসদীয়’ আখ্যা দিয়ে লোকসভার কার্যবিবরণী থেকে তা মুছে ফেলার জোরালো দাবি জানান।
রাহুলকে বিঁধে মোদির প্রশংসায় শমীক সংসদে রাহুলের এই মন্তব্য সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “লোকসভার মতো একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী যে ভাষা প্রয়োগ করেছেন, তা কোনও সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মোটেও কাম্য নয়। এই ধরনের কুরুচিকর ও অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করা থেকে তাঁর বিরত থাকা উচিত ছিল।”
একই সঙ্গে সংসদে প্রশ্নফাঁসরোধী বিল পাশ হওয়াকে ঐতিহাসিক সাফল্য বলে অভিহিত করেন শমীক। নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এই বিল পাশ প্রমাণ করে দিল ‘মোদির গ্যারান্টি’ পূরণের আসল অর্থ কী।” সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নফাঁস কাণ্ড নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলে বিরোধী শিবিরকে তোপ দেগে তিনি আরও বলেন, “যাঁরা ছাত্রদের উস্কানি দিয়ে এবং ঘোলা জলে মাছ ধরে নিজেদের রাজনৈতিক অপ্রাসঙ্গিকতা ঢাকার চেষ্টা করছিলেন, এই বিল তাঁদের জন্য একটি কড়া জবাব। দেশের যুবসমাজ এখন খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছে কারা তাদের আসল ভবিষ্যৎ গড়ছে আর কারা বিপথে চালিত করছে।”
