কড়া আইনেই কি থামবে প্রশ্নফাঁস? কেন্দ্রের বিলকে শানিত আক্রমণ সিজেপির, পেশ ৫ দফা দাবি – এবেলা

কড়া আইনেই কি থামবে প্রশ্নফাঁস? কেন্দ্রের বিলকে শানিত আক্রমণ সিজেপির, পেশ ৫ দফা দাবি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশজুড়ে নিট-ইউজি (NEET-UG) কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক জলঘোলার জেরে সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই বিতর্কের আবহেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চিরতরে রুখতে লোকসভায় পাস হয়েছে চর্চিত ‘পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’। তবে আইন কঠোর করা হলেও মোদী সরকারের এই পদক্ষেপকে তীব্র কটাক্ষ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দলটির দাবি, বিলে অপরাধের পর শাস্তির কথা থাকলেও, প্রশ্নফাঁস ঠেকানোর কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই।

‘শাস্তি নয়, চাই মূল সমস্যার সমাধান’

নতুন সংশোধনী বিলের বিরোধিতায় সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) জানান, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন বা কঠোর শাস্তির বিধান দিয়ে আসল সমস্যা মেটানো সম্ভব নয়। অপরাধ ঘটার পর পদক্ষেপ না করে, প্রশ্নফাঁস যাতে শুরুতেই আটকানো যায় সে বিষয়ে বিলে কোনো স্পষ্ট দিশা নেই। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বাড়াতে সিজেপির পক্ষ থেকে কেন্দ্রকে ৫ দফা রূপরেখা মানার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে:

  • এনটিএ (NTA) সংস্কার: ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির প্রশাসনিক ও পরিচালন কাঠামোর আমূল পরিবর্তন।
  • পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা: পরীক্ষা সূচি, ক্যালেন্ডার ও সিলেবাস সংক্রান্ত তথ্যে শতভাগ স্বচ্ছতা আনা।
  • কড়া ভেন্ডর নিয়ন্ত্রণ: থার্ড পার্টি সার্ভিস প্রোভাইডারদের ওপর কড়া নজরদারি ও ব্ল্যাকলিস্টেড সংস্থাকে দূরে রাখা।
  • নিয়মিত অডিট: জালিয়াতি রুখতে ফিজিক্যাল ও ডিজিটাল উভয় ব্যবস্থারই নিয়মিত অডিট বাধ্যতামূলক করা।
  • বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়া।

রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন

অন্যদিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, নীতি ও মানসিকতা পরিষ্কার না থাকলে শুধু আইন বানিয়ে লাভ নেই। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, নতুন আইনের প্রচার সত্ত্বেও সম্প্রতি একটি প্রশ্নফাঁস মামলার প্রথম শুনানিতে খোদ সিবিআইয়ের আইনজীবীই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না!

বিলে কী কী কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে?

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পড়ে গত ২৭ জুলাই লোকসভায় এই বিল पेश করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। ২০২৪ সালের আইনকে আরও কঠোর করে সমস্ত অপরাধকে ‘জামিন অযোগ্য’ ও ‘কগনিজেবল’ ঘোষণা করা হয়েছে:

  • ব্যক্তিগত অপরাধ: সাজা বাড়িয়ে ৫ থেকে ১০ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানা বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।
  • সংস্থা বা ভেন্ডর: দোষী সাব্যস্ত হলে ৫ কোটি টাকা জরিমানা এবং টানা ৮ বছরের জন্য সরকারি পরীক্ষার কাজ থেকে নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা।
  • সংগঠিত চক্র: অর্গানাইজড ক্রাইমের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৭ বছরের জেল ও সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
  • দ্রুত তদন্ত: নতুন ১২এ ও ১২বি ধারা যুক্ত করে সিবিআই বা এসটিএফ-কে মামলা হাতে পাওয়ার ২ মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *