লিফট দুর্ঘটনায় কার দায়? সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে ৩ কোটি টাকার বেশি ক্ষতিপূরণের নির্দেশ! – এবেলা

লিফট দুর্ঘটনায় কার দায়? সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে ৩ কোটি টাকার বেশি ক্ষতিপূরণের নির্দেশ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বহুতলে লিফট দুর্ঘটনায় আর দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এমন এক তাৎপর্যপূর্ণ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, লিফট নির্মাতা সংস্থা, রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভবন মালিক বা পরিচালন কর্তৃপক্ষ—এই তিন পক্ষকেই যৌথভাবে দুর্ঘটনার দায়ভার বহন করতে হবে।

বিচারপতি পিএস নরসিমা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে জানান, বর্তমান শহুরে জীবনে লিফট কার্যত গণপরিবহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। লিফটের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার কথা মাথায় রেখে দুর্ঘটনার দায় সম্পর্কিত প্রতিটি পক্ষকেই নিতে হবে। বেঞ্চ আরও উল্লেখ করে, দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ব্যক্তির পক্ষে কার গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটেছে তা খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাঁর পরিবার যেকোনো এক পক্ষের কাছে পুরো ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করবে কার কতটা দায় ছিল।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সুপ্রিম কোর্টের রায়: ২০০৩ সালে ভারতের গুপ্তচর সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর সদর দফতরে লিফট বিকল হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় কূটনীতিক বিপিন হান্ডার। এই ঘটনায় ২০০৪ সালে ‘ন্যাশনাল কনজ়িউমার ডিসপিউট রিড্রেসাল কমিশন’ (NCDRC) নিহতের পরিবারকে ৩.০১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে লিফট নির্মাতা সংস্থা ‘ওটিস এলিভেটর কো ম্পা নি (ইন্ডিয়া) লিমিটেড’ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায়। কিন্তু শীর্ষ আদালত ওটিসের সেই আবেদন খারিজ করে এনসিডিআরসি-র রায়ই বহাল রাখে।

পাশাপাশি, ২০০৩ সালের ২০ মার্চ থেকে বকেয়া ক্ষতিপূরণের ওপর বার্ষিক ৯ শতাংশ হারে সুদ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ না করা হলে সুদের হার বাড়িয়ে ১২ শতাংশ করা হবে বলেও সতর্ক করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

নথিপত্র খতিয়ে দেখে আদালত এই ক্ষতিপূরণের অর্থ বণ্টনের হিসাবও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে:

  • ৭০% ক্ষতিপূরণ: লিফট নির্মাতা সংস্থা ওটিসকে দিতে হবে (বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির খবর পাওয়া সত্ত্বেও ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে)।
  • ২৫% ক্ষতিপূরণ: রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সংস্থাকে মেটাতে হবে (যথাযথ তদারকি না করার দায়ে)।
  • ৫% ক্ষতিপূরণ: সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দিতে হবে (অভিযোগ পেয়েও নিষ্ক্রিয় থাকার জন্য)।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *