বিশ্ববাজারে আর ধাক্কা নয়! গভীর সমুদ্রে ৬০টি কূপ খনন করে জ্বালানিতে বিপ্লব আনতে চলেছে ভারত! – এবেলা

বিশ্ববাজারে আর ধাক্কা নয়! গভীর সমুদ্রে ৬০টি কূপ খনন করে জ্বালানিতে বিপ্লব আনতে চলেছে ভারত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিল ঐতিহাসিক ‘সমুদ্র মন্থন’ প্রকল্পে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের অধীনস্থ এই মেগা প্রজেক্টের জন্য ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ৮৪,০৮৪ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।

বর্তমানে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ। দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর প্রায় ১৩ লক্ষ কোটি টাকা (১৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিদেশেই চলে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীলতার দরুন দেশের অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়ে, তা স্থায়ীভাবে দূর করতেই দেশের নিজস্ব সমুদ্রসীমায় এই বিরাট অভিযান।

প্রকল্পের ৪টি প্রধান স্তম্ভ:

১. সিসমিক ডেটা সংগ্রহ (২৮,৫৩৪ কোটি টাকা): আধুনিক প্রযুক্তিতে সমুদ্রের তলদেশের সিসমিক সমীক্ষা ও মানচিত্র তৈরি। ২. গভীর সমুদ্রে ড্রিলিং (৪৩,২০০ কোটি টাকা): অত্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সমুদ্রে ৬০টি অনুসন্ধানী কূপ খনন করা হবে। ৩. কমন ইনফ্রাস্ট্রাকচার হাব (১০,০০০ কোটি টাকা): উত্তোলিত তেল ও গ্যাস দ্রুত বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার উপযোগী করতে যৌথ অফশোর পরিকাঠামো নির্মাণ। ৪. উৎপাদন ও পরিষেবা জোন (২,০০০ কোটি টাকা): দেশীয় প্রযুক্তিতে তেল অনুসন্ধানের সরঞ্জাম তৈরি ও পরিষেবাকে উৎসাহিত করা।

যুগান্তকারী সংস্কার ও উন্মুক্ত সমুদ্রসীমা

সরকারের নতুন সংস্কারের ফলে আগে যে সমস্ত অঞ্চলকে নিষিদ্ধ বা ‘নো-গো জোন’ হিসেবে রাখা হয়েছিল, তার ৯৯%-ই এখন অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত। এর ফলে ভারতের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের প্রায় ১০ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্রথমবারের মতো তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে। ‘অয়েলফিল্ডস ডেভেলপমেন্ট অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট, ২০২৫’ এবং নতুন রাজস্ব ভাগাভাগি মডেলের কারণে বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগ আকর্ষণ সহজ হবে।

দেশের অভাবনীয় অর্থনৈতিক লাভ

  • উৎপাদন বৃদ্ধি: দেশের বর্তমান বার্ষিক উৎপাদন ৬২ মিলিয়ন মেট্রিক টন তেল সমতুল্য (MMTOE) থেকে বাড়িয়ে ৮০ MMTOE করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
  • বিপুল খনিজ ভাণ্ডার: হাইড্রোকার্বন সম্পদের মজুত ১.৬ বিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ২.২ বিলিয়ন টনে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা।
  • ১ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয়: দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে প্রতি বছর বিদেশি মুদ্রা আমদানিতে দেশের প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বেঁচে যাবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *