তৃণমূলের পর এ বার বিজেপি! কাটমানি অভিযোগে শীতলকুচিতে নেতাদের ‘ডিম থেরাপি’ দিল কর্মী-সমর্থকরাই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল নেতাদের পর এ বার বিজেপি নেতাদের লক্ষ্য করে উড়ে এল ডিম! আর এই ‘ডিম থেরাপি’-র পেছনে ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের হাত রয়েছে বলেই অভিযোগ উঠল কোচবিহারের শীতলকুচি ব্লকের ছোট শালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে তৃণমূল পরিচালিত ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও সদস্যরা অফিসে আসছিলেন না। ফলে পঞ্চায়েতের কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়েছিল। সোমবার বিজেপির মণ্ডল সভাপতি পবিত্র অধিকারী তৃণমূলের প্রধান-সহ অন্যান্য সদস্যদের পঞ্চায়েত অফিসে ঢোকানোর চেষ্টা করলে নিজস্ব কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, কয়েক জন স্থানীয় বিজেপি নেতা তৃণমূল প্রধানের কাছ থেকে কাটমানি খেয়ে দলীয় কর্মীদের না জানিয়েই প্রধানকে পঞ্চায়েতে ফেরানোর চক্রান্ত করছিলেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। শীতলকুচি থানার পুলিশ এসে বিজেপি নেতাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পুলিশ যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকেরা পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন।
কাকতালীয়ভাবে, গত শনিবারই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তোলাবাজি প্রসঙ্গে সতর্ক করে বলেছিলেন, “এই ডিম কিন্তু ঘুরে গিয়ে অন্য দিকেও পড়তে পারে।” তার মাত্র একদিন পরই শীতলকুচির এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার সৃষ্টি করেছে।
যদিও মণ্ডল সভাপতি পবিত্র অধিকারী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা কাটমানির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, নতুন বিজেপি কর্মীরাই এই ঝামেলা পাকাচ্ছে; তারা এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই কাজ সচল করতে চাইছিলেন। অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন ডিম ছোড়ার ঘটনাটি এড়িয়ে গিয়ে জানান যে, কেবল পরিস্থিতি সামাল দিতেই বিজেপি নেতৃত্ব সেখানে গিয়েছিল।
