টুলু-কাণ্ডে বড় অ্যাকশন: কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের পর বলির পাঁঠা কি নিচু তলার দুই পুলিশই? – এবেলা

টুলু-কাণ্ডে বড় অ্যাকশন: কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের পর বলির পাঁঠা কি নিচু তলার দুই পুলিশই? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পুলিশের প্রত্যক্ষ মদত ছাড়া যে কোন ধরনের পাচারচক্র চালানো সম্ভব নয়—তা আজ সর্বজনবিদিত। তৃণমূল জামানায় কয়লা, বালি বা গরু পাচারের মামলায় একাধিকবার ইডি ও সিবিআইয়ের আতশিকাঁচের নিচে এসেছেন রাজ্যের তাবড় আইপিএস আধিকারিকরা। এবার বীরভূমের বিতর্কিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বেআইনি কারবারেও পুলিশের গভীর যোগসাজশের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।

দুই এসআই ‘ক্লোজ’, কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়

টুলু-কাণ্ডে নাম জড়ানোয় মহম্মদবাজার থানার দুই সাব-ইনস্পেক্টর (SI), সানাউর হোসেন এবং আব্দুল আলিমকে সোমবার পুলিশ লাইনে ‘ক্লোজ’ করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে—টুলুর কোটি কোটি টাকা, বিপুল সোনা, ২৫০টি গাড়ি এবং ৩০০ একর জমির সাম্রাজ্য তো শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক ও প্রভাবশালী নেতাদের আতিথেয়তায় গড়ে উঠেছিল। তবে কি আসল বড় মাছদের বাঁচাতে কেবল দুই ‘চুনোপুঁটি’ এসআই-কে বলির পাঁঠা করা হলো?

সূত্রের খবর, এই দুই অফিসার টুলুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সাধারণ মানুষ টুলুর বিরুদ্ধে জমি দখল বা অন্য কোনো অভিযোগ নিয়ে থানায় এলে তাঁদের এই দুই এসআইয়ের কাছেই পাঠানো হতো। পুলিশ সূত্রের দাবি, থানার টেবিলে বসেই টুলুর হয়ে যাবতীয় ‘ডিল’ করতেন তাঁরা, এমনকি পদস্থ আধিকারিকদের ঘুষের অঙ্ক বা ‘প্যাকেট’ বণ্টনও নিয়ন্ত্রণ করতেন এই দুজনই।

ম্যানেজার সীতেশের ডায়েরিতে প্রভাবশালীদের তালিকা

রবিবার রাতে টুলুর ডানহাত তথা ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিক গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর কাছ থেকে একটি গোপন ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে। সেখানে বহু নেতা, মন্ত্রী, আমলা এবং পুলিশ আধিকারিকের নাম পাওয়া গিয়েছে।

অন্যদিকে, নলহাটিতে একটি পাথর খাদানে বিস্ফোরক সরবরাহকারী শাহে আলম ও তাঁর দুই সহযোগীর ওপর ১১ রাউন্ড গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আহতরা। এই গুলি চালনার ঘটনার পেছনেও টুলুর যোগ থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

সোমবার জেলা পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ জানান, এ পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের নগদ, সোনা, জমি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে মোট ২২ও কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নতুন করে ফ্রিজ করা হয়েছে আরও ৪২.৫ কোটি টাকা।

টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলকে জেরা করেই ম্যানেজার সীতেশের হদিস পায় পুলিশ। সীতেশ পাঁচামি ও ডেউচায় পাথর কারবারের যাবতীয় আর্থিক হিসাব রাখতেন। আদালত তাঁকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, টুলুর গোডাউন থেকে একটি জাল প্রিন্টিং মেশিন উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে জাল চালান (DCR) ছাপা হতো কি না তা পরীক্ষা করতে ফরেনসিক টিমকে ডাকা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *