“মসজিদে আজান না বাজলে কী বাজবে?” — লাউডস্পিকার ইস্যুতে দিল্লিতে অমিত শাহর মুখোমুখি মুর্শিদাবাদের ৩ সাংসদ – এবেলা

“মসজিদে আজান না বাজলে কী বাজবে?” — লাউডস্পিকার ইস্যুতে দিল্লিতে অমিত শাহর মুখোমুখি মুর্শিদাবাদের ৩ সাংসদ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের বিভিন্ন মসজিদে লাউডস্পিকার খুলে নেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্র সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করলেন মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ—ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান এবং আবু তাহের খান। বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়া দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়ে তাঁরা একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

বৈঠক শেষে বহরমপুরের সাংসদ আবু তাহির খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্যায় হলে আমরা মেনে নেব না। মসজিদে আজান না বাজলে কী বাজবে? আজান বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সুপ্রিম কোর্টের শব্দদূষণ সংক্রান্ত নির্দেশ অবশ্যই পালনীয়, কিন্তু বেছে বেছে মসজিদ থেকে মাইক খুলে ফেলা অনুচিত। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি দেখার অনুরোধ জানিয়েছি এবং তিনি ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।”

স্মারকলিপির প্রধান সুর ও বিটিসিএম বিতর্ক:

সাংসদদের পেশ করা স্মারকলিপিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাঁরা দেশের আইন ও সুপ্রিম কোর্টের শব্দদূষণ সংক্রান্ত নির্দেশকে পূর্ণ সম্মান জানান। তবে সেই নির্দেশ যেন কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতি বৈষম্যমূলক না হয় এবং সংবেদনশীলতার সঙ্গে সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়। পাশাপাশি, নাগরিকত্ব ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সাধারণ বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের হয়রানি বন্ধের দাবিও তোলেন খলিলুর রহমানরা।

রাজনৈতিক অবস্থান ও এনডিএ থেকে দূরত্ব:

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ভেঙে বের হওয়া ২০ জন সদস্যের ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (NCPI)-র প্রতিনিধিত্ব করলেও, এই তিন সাংসদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা এনডিএ (NDA) বা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না। এমনকি আসন্ন এনডিএ-র কোনো বৈঠকেও তাঁরা অংশ নেবেন না।

তৃণমূল থেকে পৃথক হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর সমন্বয় বৈঠকে তাঁদের উপস্থিতি ঘিরে জেলাজুড়ে ভোটারদের একাংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। কারণ, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুর—তিনটি লোকসভা কেন্দ্রই সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত (যেখানে মুর্শিদাবাদে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৬৬-৬৭%)। নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও জনভিত্তি ধরে রাখতেই তাঁরা এনডিএ-র সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছেন বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

বর্তমানে স্পিকার ওম বিড়লা লোকসভায় এনসিপিআই-এর ২০ জন সাংসদের গোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেননি। রাজনৈতিক দিক থেকে মুর্শিদাবাদের এই ৩ সাংসদের অবস্থান এখন অত্যন্ত প্রভাবশালী বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *