কুয়োর জলে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ! ভূতুড়ে কাণ্ড নাকি বিজ্ঞানের রহস্য? মোরবিতে তদন্তে বিশেষজ্ঞরা – এবেলা

কুয়োর জলে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ! ভূতুড়ে কাণ্ড নাকি বিজ্ঞানের রহস্য? মোরবিতে তদন্তে বিশেষজ্ঞরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিজস্ব প্রতিনিধি: চারপাশের পুকুর বা খালের জল একেবারে স্থির। ভূকম্পনেরও কোনো চিহ্ন নেই। অথচ ১৮ ফুট গভীর একটি কুয়োর জল সমুদ্রের তরঙ্গের মতো লাগাতার কেঁপে চলেছে! গুজরাটের মোরবি জেলার বীরপারদা গ্রামে গত কয়েক দিন ধরে চলা এই অদ্ভুত ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ একে ‘অলৌকিক’ বা ‘ভূতুড়ে’ কাণ্ড বলে দাবি করলেও আসল কারণ খুঁজতে নেমেছেন ভূতাত্ত্বিকরা।

ঠিক কী ঘটেছে মোরবিতে? ঘটনাটি বীরপারদা গ্রামের কৃষক প্রাণজীবন সাদারিয়ার খামারের। গত ২ আগস্ট প্রথম দেখা যায়, খামারের ১৮ ফুট গভীর কুয়োটির স্থির জল হঠাৎই সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো নাচতে শুরু করেছে। ঢেউয়ের তীব্রতায় কানায় কানায় ভরা কুয়োর জল উপচে বাইরে বেরিয়ে আসছে। টানা ৫ দিন ধরে এই অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া চলতে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ভেবেছিলেন এটি হয়তো কোনো বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস। তবে আবহাওয়া ও ভূতত্ত্ব দপ্তর নিশ্চিত করেছে, এলাকায় কোনো ভূকম্পন রেকর্ড হয়নি।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? ভূতুড়ে কাণ্ড নাকি প্রাকৃতিক নিয়ম? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হতেই আসরে নামে মোরবি জেলা প্রশাসন। ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলা ভূতাত্ত্বিকরা। মোরবির জেলা কালেক্টর স্বপ্নিল খারে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ভূতাত্ত্বিকদের অনুমান—সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির ফলে ভূগর্ভস্থ জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। মাটির নিচের পাথরের ছিদ্রপথে যে বাতাস এতদিন আটকে ছিল, জলস্তরের চাপে তা বের হতে চেষ্টা করছে। সেই আটকে থাকা বাতাস স্থান পরিবর্তন করে জলর ওপর উঠে আসার সময়ই কুয়োর জলে এই ক্রমাগত আলোড়ন বা ঢেউ সৃষ্টি করছে।

জেলা ভূতত্ত্ববিদ জে এস ভাধের-এর মতে, মাটির নিচের বাতাসের চাপ এবং ভূগর্ভস্থ জলপ্রবাহের যৌথ প্রভাবই এর মূল কারণ হতে পারে।

তবে এটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ঘটনার প্রকৃত সত্যতা ও বৈজ্ঞানিক কারণ উদঘাটন করতে ‘গুজরাট গ্রাউন্ডওয়াটার রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-কে বিস্তারিত সমীক্ষা চালিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রশাসন গ্রামবাসীদের আতঙ্কিত না হতে এবং কোনো গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *