হানিট্র্যাপের শিকার উইং কমান্ডার! সোশ্যাল মিডিয়ার প্রেমে ফাঁস কি তবে দেশের গোপন প্রতিরক্ষা তথ্য? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেমের ছলে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর চক্রান্তের পর্দাফাঁস হলো। স্পর্শকাতর প্রতিরক্ষা তথ্য পাচারের অভিযোগে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) এক উইং কমান্ডারকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’-এ মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারীদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়—এর পেছনে কাজ করছে সুপরিকল্পিত কোনো আন্তর্জাতিক গুপ্তচর নেটওয়ার্ক।
কীভাবে হানিট্র্যাপের শিকার হলেন আধিকারিক?
পুলিশ সূত্রের খবর, ফিল্ড ইউনিটে কর্মরত ওই উইং কমান্ডার ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কিছু টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক রহস্যময়ী নারী তাঁকে টার্গেট করেন। প্রথমে মেসেজ চ্যাট এবং পরে ভিডিও কলের মাধ্যমে দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে ওই নারীর বিছানো ‘হানিট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে পুরোপুরি পা দেন বায়ুসেনার এই পদস্থ আধিকারিক।
কীভাবে চলত তথ্য পাচার ও স্পাইওয়্যার আক্রমণ?
গভীর বিশ্বাস তৈরি হওয়ার পর, ওই নারী সেনার কৌশলগত অবস্থান ও সামরিক গতিবিধি সংক্রান্ত অতি-সংবেদনশীল তথ্য চাইতে শুরু করেন। অভিযোগ, আধিকারিক ডিজিটাল মাধ্যমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নথি, ছবি ও ভিডিও পাঠাতেন।
শুধু তা-ই নয়, একটি নির্দিষ্ট সময়ে ওই নারী উইং কমান্ডারকে তাঁর এক সহকর্মীর ফোনে একটি বিশেষ অ্যাপ ইনস্টল করতে বলেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অ্যাপটি আসলে একটি ঘাতক ‘স্পাইওয়্যার’ (Spyware) বা ‘রিমোট-অ্যাক্সেস ম্যালওয়্যার’ (Remote Access Malware)। এর মাধ্যমে ওই সহকর্মীর ফোনের তথ্য চুরি, লোকেশন ট্র্যাক করা এবং কথোপকথন রেকর্ড করা হচ্ছিল।
পেছনে রয়েছে পাক হ্যান্ডলারদের হাত
দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় দেওয়া ওই নারী মূলত পাকিস্তান-ভিত্তিক গুপ্তচর সংস্থা বা হ্যান্ডলারদের নির্দেশেই এই ছক কষেছিলেন। ওই আধিকারিক সেনার কতটা গভীরে লুকিয়ে থাকা গোপন তথ্য পাচার করেছেন, তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস, চ্যাট হিস্ট্রি ও কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বায়ুসেনার নজরদারি ও পদক্ষেপ
ভারতীয় বায়ুসেনার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, উক্ত আধিকারিকের চালচলন ও ডিজিটাল গতিবিধি দীর্ঘদিন ধরেই সেনার অভ্যন্তরীণ নজরদারিতে ছিল। সন্দেহ দানা বাঁধতেই দিল্লি পুলিশে লিখিত অভিযোগ জানানো হয় এবং যৌথ পদক্ষেপে এই বড়সড় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করা সম্ভব হয়। ঘটনাটি জানাজানি হতেই দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও পুরোদমে জারি রয়েছে।
