সুপ্রিম স্বস্তির পরই ভবানী ভবনে অভিষেক-সঙ্গী সুমিত রায়: জমি দুর্নীতি মামলায় CID জেরা শুরু! – এবেলা

সুপ্রিম স্বস্তির পরই ভবানী ভবনে অভিষেক-সঙ্গী সুমিত রায়: জমি দুর্নীতি মামলায় CID জেরা শুরু! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে থাকার পর অবশেষে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা (CID)-র মুখোমুখি হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ জমি সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার প্রেক্ষিতে জেরা সহ্য করতে তিনি ভবানী ভবনে পৌঁছান।

প্রসঙ্গত, জমি দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সুমিত রায়কে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ প্রদান করার পর শুক্রবারই তাঁর নিউ আলিপুরের বাসভবনে সিআইডি হাজিরার নোটিস দিয়ে আসে। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী শনিবার সকালেই ভবানী ভবনে এসে উপস্থিত হন তিনি এবং গোয়েন্দাদের জেরার মুখোমুখি হন।

কী ছিল মূল বিতর্ক? শালবনি থানায় দায়ের হওয়া জমি দুর্নীতির একটি মামলায় সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতেও হাজির হয় এবং সুমিতের খোঁজে মধ্যরাতে তালা ভেঙে তল্লাশি চালায়। কিন্তু সে সময় তাঁর সন্ধান মেলেনি। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু করা হলে সুমিত রায় আদালতে আইনি সুরক্ষার আবেদন জানান।

চাকরি সংক্রান্ত একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট তদন্তে সহযোগিতার শর্তে তাঁকে সাময়িক আইনি সুরক্ষা দিয়ে ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে জমি দুর্নীতি মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করে দেয়।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও বর্তমান পরিস্থিতি: হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হন সুমিত রায়। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয় যে পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না, তবে তাঁকে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাকে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেওয়া হয়। সুপ্রিম নির্দেশ পাওয়ার পরই শুক্রবার তাঁর বাড়িতে নোটিস ঝুলিয়ে আসে সিআইডি।

তবে সুমিত রায়ের আইনি জটিলতা এখনও পুরোপুরি কাটে না। তাঁর বিরুদ্ধে আরও দু’টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ওই দুই মামলায় গ্রেফতারি এড়াতে তিনি হাইকোর্টে দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ তা খারিজ করে স্বাভাবিক তালিকা অনুযায়ী শুনানির নির্দেশ দিয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে বিষ্ণুপুর ও শালবনি থানার পুলিশ এবং পরবর্তীতে তদন্ত হাতে নেওয়া সিআইডি আধিকারিকরা একাধিকবার সুমিতের বাড়ি গেলেও তাঁর খোঁজ পাননি। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের সুরক্ষাকবচ পাওয়ায় সিআইডি-র মুখোমুখি হলেন অভিষেকের এই ঘনিষ্ঠ আপ্তসহায়ক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *