এমবিবিএস পাশেই কি গ্রামীণ পরিষেবা বাধ্যতামূলক? দেশজুড়ে অভিন্ন নীতির পক্ষে সওয়াল সুপ্রিম কোর্টের! – এবেলা

এমবিবিএস পাশেই কি গ্রামীণ পরিষেবা বাধ্যতামূলক? দেশজুড়ে অভিন্ন নীতির পক্ষে সওয়াল সুপ্রিম কোর্টের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মেডিকেল পাঠক্রম সম্পন্ন করার পর চিকিৎসকদের গ্রামে গিয়ে পরিষেবা দেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত কি না এবং রাজ্যভেদে আলাদা নিয়ম না রেখে গোটা দেশের জন্য একটি অভিন্ন নীতি গড়া যায় কি না—তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অবস্থান জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালতের একটি বেঞ্চ এ বিষয়ে কেন্দ্রকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবার পরামর্শ দিয়েছে।

‘দেশ গঠনে চিকিৎসকদের দায়বদ্ধতা রয়েছে’ মামলার শুনানিতে বিচারপতি পি. এস. নরসিমহা ও বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, চিকিৎসাশাস্ত্রের পড়ুয়াদের দেশ গঠনের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। তাই একেক রাজ্যে একেক রকম নিয়ম না রেখে, সারা ভারতের জন্য একটি অভিন্ন ও সুনির্দিষ্ট নীতি থাকা জরুরি। আদালতের এই বার্তার পর কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল জানান, তিনি এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশ নিয়ে আদালতকে অবহিত করবেন।

কোথা থেকে এই আইনি লড়াইয়ের সূচনা? মামলাটির জন্ম কর্ণাটকের একটি আইনকে কেন্দ্র করে। কর্ণাটকে নিয়ম রয়েছে—মেডিকেল পড়ুয়াদের স্থায়ী রেজিস্ট্রেশন পেতে গেলে অন্তত এক বছর সরকারি গ্রামীণ এলাকায় কাজ করতে হবে। সরকারি ও ডিমড বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি কোটার পড়ুয়াদের জন্য এই নিয়ম কার্যকর ছিল এবং এই পরিষেবা শেষ করলেই মিলত এনওসি (NOC) ও রেজিস্ট্রেশন।

বিতর্কের মূল কারণ কী? ২০২৩ সালে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বেসরকারি আসনের বিপুল টাকা খরচ করে পড়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এই গ্রামীণ পরিষেবা বাধ্যতামূলক করা হয়। এরপরই বেশ কিছু পড়ুয়া আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের যুক্তি ছিল, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত আসন আর লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে পড়া বেসরকারি আসনের পড়ুয়াদের এক নিক্তিতে মাপা যায় না।

আদালতের মতামত ও ভবিষ্যৎ দিক নির্দেশ শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করে যে, চিকিৎসা ক্ষেত্রের পরিকাঠামোর পেছনে রাষ্ট্রের অবদান থাকে এবং চিকিৎসকদের জ্ঞান সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই বেসরকারি কলেজের পড়ুয়াদের কেন এই দায়িত্ব থেকে ছাড় দেওয়া হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত।

তবে সুপ্রিম কোর্ট এখনই কোনো চূড়ান্ত রায় দেয়নি বা নির্দেশ চাপিয়ে দেয়নি। কেন্দ্রকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য ৩ সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। এই পর্যবেক্ষণের ফলে আগামী দিনে এমবিবিএস, পিজি ও সুপার-স্পেশালিটি চিকিৎসকদের গ্রামীণ পরিষেবার বন্ড নিয়মে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *