“ডিমে ভয় কেন?” মহুয়াকে বিচারপতির প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চকে ইমপিচমেন্টের হুঙ্কার CJP-র! – এবেলা

“ডিমে ভয় কেন?” মহুয়াকে বিচারপতির প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চকে ইমপিচমেন্টের হুঙ্কার CJP-র! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের একটি ফৌজদারি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফেসবুক পোস্ট সংক্রান্ত এই মামলায় পুলিশের সামনে সশরীরে উপস্থিত না হয়ে ভার্চুয়ালি হাজিরা দেওয়ার আবেদন জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহুয়া। কিন্তু বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।

আদালতে ঠিক কী ঘটেছিল?

এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, আগামী ১৪ অগস্ট মহুয়া মৈত্রকে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ না করে, মহুয়া সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান যাতে নিরাপত্তার কারণে তাঁকে ভার্চুয়ালি মুখোমুখি হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

মহুয়ার আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতে যুক্তি দেন যে, অতীতে নিজের কেন্দ্রের থানায় যাওয়ার সময় মহুয়ার দিকে ডিম ছোঁড়া হয়েছিল। তাই এবারও সহিংস ঘটনার আশঙ্কা থাকছে।

তবে এই যুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আপনি একজন সাংসদ হয়ে রাজনীতিতে আসার পর ডিমে ভয় পাচ্ছেন কেন?” এরপর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তাঁরা তো বুক পেতে গুলি খেয়েছিলেন! আদালতের এই কঠোর অবস্থানের পর মহুয়ার আইনজীবী আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেন।

তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের ঝড়

বিচারপতির এই পর্যবেক্ষণ প্রকাশ্যে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা কি তবে চান মহুয়া মৈত্র গুলি খান?

তিনি বলেন, একজন সাংবিধানিক পদের ব্যক্তি হিসেবে বিচারপতির থেকে এমন বক্তব্য অপ্রত্যাশিত। মহুয়ার নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে মহুয়ার কোনও ক্ষতি হলে তার দায় সুপ্রিম কোর্টের এই বেঞ্চকেই নিতে হবে। এমনকি গণতন্ত্র রক্ষায় উক্ত বিচারপতির পদত্যাগ বা ইমপিচমেন্টের (অপসারণ) দাবিও তোলেন তিনি। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপও একই সুরে বিচারব্যবস্থার এমন ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।

মামলার মূল প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, একটি ঘৃণাভাষণ মামলায় গত ২১ জুলাই কলকাতা হাইকোর্ট মহুয়া মৈত্রকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সমস্ত কড়া পদক্ষেপ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন আইনি সুরক্ষা দিয়েছিল। মহুয়ার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সেই মামলার তদন্তের স্বার্থেই বর্তমানে তাঁকে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *