“মসজিদে আজানের মাইক খোলা পীড়াদায়ক!”—নবান্নে শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিলেন আবু তাহেররা – এবেলা

“মসজিদে আজানের মাইক খোলা পীড়াদায়ক!”—নবান্নে শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিলেন আবু তাহেররা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর এবার নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান এবং জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান। তৃণমূলত্যাগী এই দুই NCPI সাংসদের আচমকা মুখ্যমন্ত্রী-সাক্ষাৎ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়। তবে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই জল্পনায় জল ঢেলে আলোচনার মূল দুটি বিষয় স্পষ্ট করেন তাঁরা— ১. SIR তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং ২. ধর্মীয় স্থানে মাইক ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা।

১. SIR তালিকা ও ২০ লক্ষ মানুষের ভবিষ্যৎ

বৈঠক শেষে সাংসদ আবু তাহের খান জানান, রাজ্যে SIR-এর কারণে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে, যা বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এর মধ্যে মাত্র ৭ লক্ষ মানুষ শুনানির (Hearing) জন্য আবেদন করতে পেরেছেন, কিন্তু তথ্যগত ভুল বা জটিলতার কারণে বাকি ২০ লক্ষ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ আবেদনই করতে পারেননি।

সাংসদদের দাবি, এই আবেদনের সময়সীমা আরও বাড়ানো হোক এবং ব্লকস্তরে শুনানির ব্যবস্থা করা হোক। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন যে, আবেদনকারী ৭ লক্ষ মানুষের দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা হবে এবং সরকার সবরকম আইনি সাহায্য করবে। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান সাংসদরা।

২. আজানের মাইক বিতর্ক ও মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান

ধর্মীয় স্থানে মাইকের ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবু তাহের বলেন,

“স্বাধীনতার পর রাজ্যে এমন পরিস্থিতি কখনো তৈরি হয়নি। আজানের মাইক খুলে ফেলা অত্যন্ত পীড়াদায়ক।”

সাংসদরা মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান যেন আদালতের শব্দবিধি মেনে মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয় এবং আর কোনো মসজিদের মাইক না খোলা হয়।

এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান যে, ২০২০ সালের আদালতের নির্দেশের ওপর ভিত্তি করেই হাইকোর্টের নজরদারিতে শব্দবিধি মানা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মসজিদ এবং ১২০০ মন্দির থেকে মাইক খোলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ২০২০ সালে যখন নির্দেশ জারি হয়, তখন কেন তৎকালীন সরকার এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলে যায়নি?

দলবদলের জল্পনা উড়িয়ে বার্তা

সম্প্রতি দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রাতরাশ বৈঠকেও যোগ দিয়েছিলেন এই দুই সাংসদ। ফলে তাঁদের বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে নবান্নের এই বৈঠকের পর আবু তাহের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁরা এখনই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না, বরং NCPI-তেই থাকছেন। তবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা সময়ের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন তাঁরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *