টিন্ডারে ফাঁদ, বিছানায় টাকার পাহাড়! ৬ কোটি টাকার ব্ল্যাকমেল কাণ্ডে জালে প্রয়াগরাজের ‘লেডি ডন’ পল্লবী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে উন্মোচিত হলো এক আশঙ্কাজনক তোলাবাজি ও ব্ল্যাকমেলিং চক্র। প্রধান অভিযুক্ত পল্লবী সিং রাজপুত নামে এক মহিলা, যিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপ ‘টিন্ডার’-এর মাধ্যমে পুরুষদের নিজের জালে জড়াতেন। পরবর্তীতে তাঁদের গোপন ও অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করে চলত অবাধ ব্ল্যাকমেল।
হাইকোর্টের এক আইনজীবীর লিখিত অভিযোগের পরই সামনে আসে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
কীভাবে চলত এই তোলাবাজি?
অভিযোগ অনুযায়ী, পল্লবী প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতেন। সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলে দেখা করার বাহানায় তাঁদের গোপন ছবি ও ভিডিও তুলে রাখা হতো। পরবর্তীতে সেইসব ছবি-ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা দাবি করা হতো। টাকা দিতে অস্বীকার করলে দেওয়া হতো ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মতো ভুয়ো মামলায় ফাঁসানোর হুমকি। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
মিথ্যে মামলায় ৫ জন ইতোমধ্যেই জেলবন্দি!
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই মহিলার মিথ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যেই ৫ জন পুরুষ জেল খেটেছেন। আইনি জটিলতা এবং সামাজিক সম্মানের ভয়ে অনেকেই চুপচাপ টাকা দিয়ে দিতেন।
নেটপাড়ায় ভাইরাল রিভলভার ও টাকার পাহাড়
ঘটনাটি সামনে আসার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ছবিতে বিছানার ওপর থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল এবং অন্যটিতে ওই মহিলাকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পোজ দিতে দেখা গেছে। তবে ছবিগুলির সত্যতা এখনো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হয়নি।
‘সুইটি’ ছদ্মনাম ও সহযোগীদের দল
তদন্তে জানা গেছে, নতুন শিকার খুঁজতে পল্লবী “সুইটি তিওয়ারি”-সহ একাধিক ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। এই পুরো চক্রটি চালাতে তাঁকে আরও দুজন মহিলা এবং দুজন পুরুষ প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করত।
বর্তমানে প্রয়াগরাজ পুলিশ ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
