প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, পাইলটের নেশার মাশুল! এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে ৩০০ ফুট পতনের নেপথ্যে বিস্ফোরক তথ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রোমহর্ষক ঘটনার নেপথ্যে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাঝআকাশে হঠাৎ ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনাটি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নয়, বরং পাইলটের চরম গাফিলতি ও নেশাগ্রস্ততার কারণে ঘটে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিমানটি নিরাপদে অবতরণের পর পাইলটদের শারীরিক পরীক্ষায় একজন পাইলটের শরীরে মাদকের উপস্থিতি (ডোপ টেস্টে পজিটিভ) ধরা পড়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
গত ৫ অগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার ‘AI2379’ (A320) বিমানটি ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু সদস্যকে নিয়ে ফুকেত থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু জানান, উড্ডয়নকালে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে বিমানটিতে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি হয় এবং এক ঝটকায় সেটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় ১৭ জন যাত্রী ও ৪ জন কেবিন ক্রু আহত হন। কয়েকজন ক্রু সদস্যের ঘাড় ও মেরুদণ্ডে গুরুতর চোট লেগেছে।
কড়া পদক্ষেপ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত
ঘটনার পরপরই বিজিএসিএ (DGCA) বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে:
- পাইলটদের বরখাস্ত: তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দুই পাইলটকেই সমস্ত ধরনের উড্ডয়ন কাজ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি (ডি-রোস্টার) দেওয়া হয়েছে।
- পরবর্তী পদক্ষেপ: ডিজিসিএ-র প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে বিষয়টি ‘এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’ (AAIB)-র কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না, তা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এয়ার ইন্ডিয়ার বক্তব্য: সংস্থাটি জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী অবতরণের পর পাইলটদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট এখনও তাদের হাতে আসেনি। নিয়ম মেনে সব ধরনের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মাঝআকাশে শত শত যাত্রীর জীবন ঝুঁকিতে ফেলার এই ঘটনায় বর্তমানে দেশজুড়ে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
