হালিশহরে থানা হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর রহস্যমৃত্যু: আইও সাসপেন্ড, ক্লোজড আইসি, পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা সাহায্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হালিশহর: থানা হেফাজতে থাকাকালীন এক তৃণমূল কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হালিশহরে। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশি হেফাজতে পিটিয়ে মারার গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই হালিশহর থানার বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
ঘটনার নেপথ্যে কী ঘটেছিল?
মৃত ব্যক্তির নাম বিরজু কেওত। তিনি কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জিনি শর্মার স্বামী এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতা কমল অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
গত শুক্রবার তোলাবাজিসহ একাধিক অভিযোগে বিরজুকে গ্রেফতার করে হালিশহর থানার পুলিশ। তবে শনিবার ভোরে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি পুলিশের। তাঁকে দ্রুত কল্যাণীর জেএনএম (JNM) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, শারীরিক নির্যাতনের ফলেই থানা হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও আর্থিক সাহায্য
ঘটনায় পুলিশি গাফিলতি ও উদাসীনতার প্রমাণ পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন:
- আইও (IO) সাসপেন্ড: হালিশহর থানার তদন্তকারী অফিসার ফিরোজ মালিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
- আইসি (IC) ক্লোজড: থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (IC) তমাল দত্তকে ক্লোজ করা হয়েছে।
পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশাসনিক স্তরে একগুচ্ছ সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে:
- মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৃত বিরজু কেওতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।
- মৃতের স্ত্রীকে উপযুক্ত সরকারি বা প্রশাসনিক চাকরির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। থানা হেফাজতে এই মৃত্যুর ঘটনা এবং দুই শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
