“মোদী-শাহ ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত সারা রাত জাগিয়ে রাখব!”— কেন্দ্রকে কড়া হুঁশিয়ারি রাহুল গান্ধীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কংগ্রেস এবং বিরোধী জোট এখন একজোট হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে এবং এই আন্দোলন এখন আর আটকানো সম্ভব নয়— বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের জাতীয় সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে এভাবে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি তুলে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানান, “যতদিন না নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ ইস্তফা দিচ্ছেন, ততদিন ওঁদের ঘুমোতে দেব না। আমরা সারা রাত জাগিয়ে রাখব— যতক্ষণ না ওঁরা মেনে নিচ্ছেন যে এই দেশ চালানো ওঁদের ক্ষমতার বাইরে। এটি কোনো হিংসা বা ঘৃণার লড়াই নয়, এটি দেশের নীতি, সংস্কৃতি ও ভালোবাসার লড়াই।”
বিদেশনীতি ও চিন সীমান্ত ইস্যুতে খোঁচা
ভারতের বিদেশনীতি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন রাহুল। তিনি বলেন, “ইরান যুদ্ধের সময় ভারতের কাছে মধ্যস্থতা করার বড় সুযোগ ছিল, কারণ ইরান, আমেরিকা ও রাশিয়া— সব দেশই আমাদের বন্ধু। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কিছুই করতে পারলেন না, উল্টে পাকিস্তান মাঝখানে ঢুকে মধ্যস্থতাকারী হয়ে গেল। ভারতের ক্ষমতা আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে?”
পাশাপাশি, অরুণাচল প্রদেশে চিন ভারতকে টহল দিতে বাধা দিচ্ছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, “রাজনাথ সিং, অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদী চিন ইস্যুতে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। সংবাদ মাধ্যমকে চাপ দিয়ে খবর চাপতে বলা হচ্ছে। গালওয়ান ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন ভারতের এক ইঞ্চি জমিও হাতছাড়া হয়নি, যা শুনে চিন উল্টে ভারতকে নিয়ে উপহাস করার সুযোগ পেয়েছিল।”
“জোকারের দলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভয় কিসের?”
আরএসএস (RSS) ও বিজেপির রাজনৈতিক মতাদর্শকে আক্রমণ করে রাহুল বলেন, “বিজেপির লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ করে নির্দিষ্ট কিছু শিল্পপতিকে (যেমন আদানি) সুবিধা দেওয়া। কিন্তু কংগ্রেসের কাজ হলো ভারতের মানুষকে নিজেদের ক্ষোভ ও অনুভূতি প্রকাশ করতে দেওয়া।” যন্তর মন্তরে নিট (NEET-UG) পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন ও উত্তরাখণ্ডের এক নির্যাতিতা তরুণীর পরিবারের করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন মানুষের কণ্ঠরোধ করছে।
সম্মেলনে উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশ্যে রাহুল গান্ধী বলেন, “আপনারা লড়াই করতে ভয় পাচ্ছেন কেন? আপনারা তো একদল ‘জোকার’ বা ভাঁড়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন! যাদের ভারতের ইতিহাস, ঐতিহ্য কিংবা বর্তমান বাস্তবতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞানই নেই। আমরা এই তৈরি করা শৃঙ্খল ও ব্যবস্থা ভেঙে ফেলব।”
