‘হর ঘর তিরঙ্গা’: ঘরে পতাকা তোলার আগে জানুন পতাকার সঠিক নিয়ম ও মর্যাদা রক্ষার খুঁটিনাটি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে দেশজুড়ে জোরকদমে পালিত হচ্ছে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাসভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে উৎসাহিত করা এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা। এবারও পতাকা তোলার পর তার সাথে তোলা সেলফি সরকারি ওয়েবাসাইট harghartiranga.com-এ আপলোড করলে মিলছে বিশেষ শংসাপত্র (Certificate)।
তবে তেরঙ্গা উত্তোলনের আনন্দের পাশাপাশি জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি ভারতবাসীর অন্যতম প্রধান কর্তব্য। ২০০২ সালের ২৬ জানুয়ারি কার্যকর হওয়া ‘ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়া’ (Flag Code of India, 2002) অনুযায়ী জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সংরক্ষণে বেশ কিছু জরুরি নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক:
জাতীয় পতাকার মাপ ও সাধারণ নিয়ম:
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত হতে হবে ৩:২।
- পতাকার সাদা অংশের একদম কেন্দ্রে ২৪টি শলাকা বা স্পোক বিশিষ্ট নীল অশোক চক্র থাকতে হবে।
- পতাকার ওপর কোনো ধরনের লেখা, ছবি বা চিহ্ন আঁকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- কোনো অবস্থাতেই ছেঁড়া, নোংরা বা ক্ষতিগ্রস্ত পতাকা ব্যবহার করা যাবে না।
উত্তোলন ও ব্যবহারের নির্দেশাবলী:
- তেরঙ্গা এমন স্থানে উড়াতে হবে যা সহজে সবার দৃষ্টিগোচর হয় এবং কোনোভাবেই যেন তা মাটি বা জল স্পর্শ না করে।
- কোনো মঞ্চে পতাকা রাখার প্রয়োজন হলে এবং বক্তা শ্রোতাদের মুখোমুখি থাকলে, জাতীয় পতাকাটি সবসময় বক্তার ডান দিকে রাখতে হবে।
- তেরঙ্গার পাশে অন্য কোনো পতাকা থাকলে তা জাতীয় পতাকার চেয়ে নিচে বা ছোট করে রাখতে হবে।
পতাকা নামানো ও সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম: জাতীয় পতাকা নামানোর পর তা সম্মানের সাথে ভাঁজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে পতাকাকে সমান্তরালভাবে ধরে তার ওপরের গেরুয়া এবং নিচের সবুজ অংশকে এমনভাবে ভেতরের দিকে মুড়ে দিতে হবে যেন শুধু মাঝের সাদা অংশ ও অশোক চক্রটি স্পষ্ট দৃশ্যমান থাকে। এরপর অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে সেই ভাঁজ করা পতাকাটি নিরাপদ কোনো স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে।
‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানে শামিল হয়ে শুধু বাড়িতে জাতীয় পতাকা ওড়ালেই চলবে না, তার সঠিক সম্মান ও বিধি মেনে চলাই হোক এই স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার।
