স্বাধীনতার দিন থেকে আজ পর্যন্ত অবিরত উড়ছে তেরঙ্গা, জানুন এই বিশেষ গ্রামের ইতিহাস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সাধারণত স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো বিশেষ দিনগুলিতে আমাদের দেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং সূর্যাস্তের আগেই তা সম্মানের সাথে নামিয়ে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের ইয়াদাদ্রি জেলার রাজপেট মণ্ডলের বেগমপেট গ্রাম এই নিয়মের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। এখানে গত ৮০ বছর ধরে বছরের ৩৬৫ দিন, ২৪ ঘণ্টাই টানা উড়ছে ভারতের জাতীয় পতাকা।
যেখান থেকে ঐতিহ্যর সূচনা ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত যখন স্বাধীন হয়, সেই স্মরণীয় দিনেই সূচনা হয়েছিল এই ঐতিহ্যের। বেগমপেট গ্রামের তিন বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী—বাদ্দাম নরসি রেড্ডি, বলজে ভিরাইয়া এবং চিগুল্লা মাল্লাইয়া—গ্রামের কেন্দ্রে প্রথম ত্রিবর্ণ পতাকা উত্তোলন করেন। এটি কেবল স্বাধীনতা উদযাপনের জন্য ছিল না, বরং দেশের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক অনন্য মাধ্যম ছিল। সেই থেকেই আজ পর্যন্ত বেগমপেটের আকাশে তেরঙ্গার উড্ডয়ন এক মুহূর্তের জন্যও থামেনি।
পতাকা বদলায়, কিন্তু অনড় থাকে সংকল্প গ্রামের নিয়ম মেনে জাতীয় পতাকা কখনো পুরোপুরি নামিয়ে রাখা হয় না। তবে নিয়ম বজায় রাখতে প্রতি বছর ১৫ আগস্ট (স্বাধীনতা দিবস), ২৬ জানুয়ারি (প্রজাতন্ত্র দিবস) এবং বিজয়াদশমীর মতো বিশেষ দিনে পুরনো বা জীর্ণ পতাকাটি সম্মানের সাথে সরিয়ে তৎক্ষণাৎ একটি নতুন ত্রিবর্ণ পতাকা উত্তোলন করা হয়। পূর্বপুরুষদের ত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনা বাঁচিয়ে রাখতে ১৯৭৯ সালে গ্রামের কেন্দ্রস্থলে মহাত্মা গান্ধীর একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়, যা আজও গ্রামবাসীর প্রধান অনুপ্রেরণা।
নতুন প্রজন্মের চেতনা ও উদ্দীপনা গ্রামের প্রবীণ থেকে শুরু করে তরুণ সমাজ—সবার কাছেই এই পতাকা নিছক কাপড়ের টুকরো নয়, বরং পূর্বপুরুষদের সীমাহীন কষ্টের প্রতীক। গ্রামবাসীদের মতে, যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে অনেক কিছু পাল্টালেও তাঁদের রক্তের সাথে মিশে থাকা দেশপ্রেম সামান্যতমও কমেনি। গত আট দশক ধরে অবিরাম উড়তে থাকা এই তেরঙ্গা প্রমাণ করে, বেগমপেটের মানুষের হৃদয়ে দেশের বীর শহিদরা চিরকাল অমর হয়ে আছেন।
