মাঝআকাশে বিকল যুদ্ধবিমান, চরম সাহসিকতায় প্রাণ বাঁচিয়ে ‘শৌর্য চক্র’ সম্মানে ভূষিত স্কোয়াড্রন লিডার সুধীর কুমার – এবেলা

মাঝআকাশে বিকল যুদ্ধবিমান, চরম সাহসিকতায় প্রাণ বাঁচিয়ে ‘শৌর্য চক্র’ সম্মানে ভূষিত স্কোয়াড্রন লিডার সুধীর কুমার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মাটি থেকে ২.২ কিলোমিটার উঁচুতে দ্রুত গতিতে উড়ছে বায়ুসেনার সুখাই-৩০ এমকেআই (Su-30 MKI)। গতি ঘণ্টায় প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘন অন্ধকারের মাঝে ঘনিয়ে এল চরম বিপর্যয়—হঠাৎ বিকল হয়ে গেল যুদ্ধবিমানের মূল ‘ফ্লাই-বাই-ওয়্যার’ (FBW) সিস্টেম।

সামনের সিটে বসে থাকা ট্রেনি পাইলট ততক্ষণে আতঙ্কে দিশাহারা। বিমান জুড়ে মারাত্মক ঝাঁকুনি, আর অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিমানের নাক ৪৫ ডিগ্রি ওপর থেকে মাইনাস ১৫ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠানামা করছে। একই সঙ্গে জি-ফোর্সের মাত্রা মাইনাস ১.৫-জি থেকে লাফিয়ে পৌঁছে গেল প্লাস ১২-জি-তে! সাধারণ মানুষের পক্ষে তো দূর, অভিজ্ঞ পাইলটদের জন্যও ১২-জি সহ্য করা আসাম্ভব—যেখানে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায় এবং জ্ঞান হারানোর ঝুঁকি থাকে শতভাগ।

এমন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও অদম্য সাহসের পরিচয় দিলেন পিছনের সিটে থাকা স্কোয়াড্রন লিডার সুধীর কুমার। মারাত্মক শারীরিক যন্ত্রণা ও চোখে ঝাপসা দেখার পরও তিনি ধৈর্য ও মনোবল হারাননি। ককপিটের মিটার স্পষ্ট না দেখা সত্ত্বেও নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিমানের ইঞ্জিন পাওয়ার বাড়িয়ে গতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আতঙ্কিত ট্রেনি পাইলটকে আশ্বস্ত করেন।

সুধীর কুমারের এই ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত ও অসামান্য নেতৃত্বের জোরে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে মাটিতে অবতরণ করে সুখাই-৩০। বেঁচে যায় দু’টি মহামূল্যবান প্রাণ এবং রক্ষা পায় বায়ুসেনার কোটি টাকার যুদ্ধবিমান।

২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বরের সেই রাতের মহড়ায় প্রদর্শন করা অভূতপূর্ব সাহসিকতা ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা দিবসে ভারত সরকার স্কোয়াড্রন লিডার সুধীর কুমারকে দেশের অন্যতম সামরিক সম্মান ‘শৌর্য চক্র’-এ ভূষিত করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *