বনকর্মীদের পুজোর বিরাট উপহার! বেতন ও ভাতা বাড়ানোর বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

বনকর্মীদের পুজোর বিরাট উপহার! বেতন ও ভাতা বাড়ানোর বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পুজোর আগেই রাজ্য বনদপ্তরের কর্মী ও আধিকারিকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্গাপুজোর মরশুম অর্থাৎ আগামী অক্টোবর মাস থেকেই দফতরের রেঞ্জার, বিট অফিসার, ফরেস্ট গার্ড এবং বন সহায়কদের নতুন বর্ধিত বেতন ও ভাতা কার্যকর হতে চলেছে।

বনের সুরক্ষা ও বন্যপ্রাণ রক্ষায় দিনরাত পরিশ্রম করা বনকর্মীদের কাজের স্বীকৃতি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই আর্থিক বৃদ্ধির ঘোষণা করেন। নতুন এই বেতন কাঠামোর বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

  • রেঞ্জার: রাজ্যের প্রায় ৫০০ জন রেঞ্জারের মাসিক বেতন প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে বাড়ানো হচ্ছে।
  • বিট অফিসার: একইভাবে প্রায় ৫০০ জন বিট অফিসারের বেতনও মাসে ৫,০০০ টাকা করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  • ফরেস্ট গার্ড: দফতরের ৬৫০ জন ফরেস্ট গার্ডের বেতন এক ধাক্কায় প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
  • বন সহায়ক: রাজ্যজুড়ে কর্মরত ১,৫০০ জন বন সহায়ক এতদিন মাসে ১০,০০০ টাকা ভাতা পেতেন। তাঁদের ভাতা ২,০০০ টাকা বাড়িয়ে ১২,০০০ টাকা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ‘সবুজ স্বাধীনতা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের ১০০ দিন পূরণের সাফল্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, জাতীয় সুরক্ষা, জনকল্যাণ এবং শিল্পের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা করাই তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

এই প্রসঙ্গে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে ও সবুজায়ন জোরদার করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন তিনি:

  • ১০ কোটি বৃক্ষরোপণ: চলতি বর্ষার মরশুমেই রাজ্যে ১০ কোটি গাছ লাগানোর বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের সহায়তায় ‘বিকশিত ভারত জিরামজি’ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই প্রায় ৫০ লক্ষ চারাগাছ রোপণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচির অনুপ্রেরণায় ও উত্তরপ্রদেশের বৃক্ষরোপণ অভিযানের আদলে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই বছর এই গাছগুলির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।
  • শহরাঞ্চলে সবুজায়ন ও আবাসন নিয়মে কড়াকড়ি: বৃহত্তর কলকাতায় সবুজের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতার ফুসফুস বাঁচাতে দ্রুত বৃক্ষরোপণ প্রয়োজন। আবাসন নির্মাতা সংস্থা ‘ক্রেডাই’ (CREDAI) ও বিল্ডারদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, নতুন বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) জায়গা বাধ্যতামূলকভাবে সবুজায়নের জন্য রাখতে হবে।
  • প্রাকৃতিক লাইটনিং অ্যারেস্টার ও শহরের নিরাপত্তা: অনুষ্ঠানে একটি নারকেল গাছের চারা রোপণ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নারকেল ও সুপারি গাছ বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় প্রাকৃতিক ‘লাইটনিং অ্যারেস্টার’ হিসেবে কাজ করে। শহরে বজ্রপাতে প্রাণহানি রুখতে নিষ্ক্রিয় লাইটনিং অ্যারেস্টারগুলির বিরুদ্ধে পুলিশ, দমকল, PWD ও KMC-কে যৌথভাবে পরিদর্শন করে কড়া ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
  • উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ রক্ষা: সন্দেশখালি, গোসাবা, হিঙ্গলগঞ্জসহ উপকূলবর্তী এলাকায় অবৈধ ইটভাটা ও ম্যানগ্রোভ ধ্বংসের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। ম্যানগ্রোভের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ ধ্বংসের কারণেই আমফানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে কলকাতা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বেআইনি দখলদারি বন্ধের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *