ধর্মতলা অগ্নিকাণ্ডে তদন্তে ৫ সদস্যের SIT, গাফিলতির খোঁজে নামল পুলিশ ও দমকল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: ধর্মতলার মির্জা গালিব স্ট্রিটে ‘শিখা ইন’ নামের একটি হোটেলে মঙ্গলবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, হোটেলটি ঠিক দমকলের সদর দপ্তরের গা ঘেঁষেই অবস্থিত। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার আসল কারণ ও গাফিলতি খতিয়ে দেখতে এবার পাঁচ সদস্যের একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে থাকছেন ডিসি ডিডি (DC DD) পদমর্যাদার একজন শীর্ষ আধিকারিক। এছাড়াও, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে গোয়েন্দা দপ্তরের হোমিসাইড শাখাও তদন্ত শুরু করেছে।
দমকলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ঘটনাটি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকাজের সময় ঘটনাস্থল থেকে ৩-৪টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে, যা এই ঘটনার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংকীর্ণ ও অপ্রশস্ত এই বিল্ডিংয়ের প্রতিটি তলায় গাদাগাদি করে ছোট ছোট হোটেল চালানো হতো। সাধারণ চলাচলের উপযুক্ত পথ তো ছিলই না, উল্টে জরুরি সময়ে আগুন নেভানোর ন্যূনতম কোনো পরিকাঠামো বা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। ভিন রাজ্য ও বিদেশ থেকে নিয়মিত পর্যটকেরা এই হোটেলে এসে থাকেন, তা সত্ত্বেও কেন প্রশাসনিক নজরদারি এড়ানো গেল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে।
রাজনীতি ও দায় ঠেলাঠেলি: বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে যান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে বলেন, “একটিমাত্র এসি চালানোর অনুমতি নিয়ে হোটেলে অন্তত ১০টি এসি চালানো হচ্ছিল।” সিইএসসি (CESC) কীভাবে এমন বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমতি দিল, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি হোটেলের ফায়ার ও ট্রেড লাইসেন্স খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় ট্রেড লাইসেন্স ও পুরসভার নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, ফায়ার অডিট বা লাইসেন্সের বিষয়টি দেখার প্রাথমিক দায়িত্ব দমকলের। শহরের প্রতিটি হোটেলের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা ব্যক্তিগতভাবে একজন মেয়রের পক্ষে নজর রাখা সম্ভব নয়।
বর্তমানে পুলিশ, সিইএসসি এবং দমকল যৌথভাবে খতিয়ে দেখছে শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কাজের জেরে এই আগুন লেগেছে কি না।
