সংসার অটুট, তবুও ঘরে ঘরে ‘ডিভোর্স’! আধুনিক দম্পতিদের নতুন ট্রেন্ড ‘ফুড ডিভোর্স’ আসলে কী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সংসার ভাঙছে না, তবুও ঘরে ঘরে আসছে ‘ডিভোর্স’! আধুনিক দম্পতিদের এই নতুন ট্রেন্ডটি কী জানেন?
‘ডিভোর্স’ বা বিচ্ছেদ শব্দটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি সাজানো সংসার ভেঙে যাওয়ার করুণ ছবি। জন্ম নেয় এক অজানা আতঙ্ক। কিন্তু বর্তমান যুগে বহু হাসিখুশি ও সুখী দম্পতির জীবনযাত্রাতেও বাসা বেঁধেছে এক অদ্ভুত ধরনের ‘ডিভোর্স’। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই—এই বিচ্ছেদে কোনো আইনি নোটিশ আসে না, আর সংসারও ভেঙে চুরমার হয় না। বদলে যায় কেবল রোজকার ডাইনিং টেবিলের পুরনো কিছু নিয়ম।
আধুনিক লাইফস্টাইলের এই চর্চিত ও জনপ্রিয় ট্রেন্ডটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফুড ডিভোর্স’ (Food Divorce)।
ঠিক কী এই ‘ফুড ডিভোর্স’?
সহজ কথায়, স্বামী-স্ত্রী এক ছাদের তলাতেই খুব সুখে-শান্তিতে বাস করছেন, প্রেম করছেন এবং চুটিয়ে গল্পও করছেন। তফাত শুধু একটাই—খাওয়ার সময়ে তাঁরা যে যার নিজের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী থালা সাজিয়ে নিচ্ছেন। আগের দিনে পরিবারে যা রান্না হতো, পছন্দ হোক বা না হোক, সবাইকে সেটাই মেনে নিয়ে খেতে হতো। কিন্তু আজকের দিনে সেই বাধ্যবাধকতা শেষ। একই পরিবারে একজন হয়তো জিভের স্বাদে মশলাদার বা রিচ খাবার পছন্দ করছেন, আর অন্যজন পুরোপুরি মন দিয়েছেন কম তেলের স্বাস্থ্যকর ও মেপে খাওয়া ডায়েট খাবারে।
কেন এই পথ বেছে নিচ্ছেন আজকের দম্পতিরা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত দুটি কারণে বর্তমান প্রজন্মের স্বামী-স্ত্রীরা এই অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন:
১. স্বাস্থ্য সচেতনতা ও ফিটনেস: আজকাল তরুণ প্রজন্মের অনেকেই নিজের ফিটনেস নিয়ে সচেতন। স্বামী হয়তো মেপে মেপে প্রোটিন ও স্যালাড খাচ্ছেন, অন্যদিকে স্ত্রীর খাদ্যতালিকা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারো ডায়েট চার্টে আবার তেল-মশলা বা চিনি একেবারে নিষিদ্ধ। তাই একে অপরের ওপর নিজেদের খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে না দিয়ে, যার যার সুবিধা মতো খাবার বেছে নিচ্ছেন তাঁরা।
২. ব্যস্ত জীবন ও কাজের ভিন্ন শিফট: আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবনে দম্পতিদের কাজের সময় মেলা বেশ কঠিন। একজনের নাইট শিফট তো অন্যজনের আবার খুব সকালে অফিস। সঙ্গীর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা না খেয়ে অপেক্ষা করলে স্বাস্থ্যের যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি মেজাজও খিটখিটে হয়ে পড়ে। তাই অযথা অপেক্ষা না করে সুবিধামতো খেয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করছেন অনেকে।
এই নতুন অভ্যাসের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো—রোজকার রান্নাবান্না ও খাওয়াদাওয়া নিয়ে সংসারে যে অকারণ অশান্তি বা খিটিমিটি হতো, তা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে স্বাস্থ্য ও মনের শান্তি দুই-ই বজায় থাকছে।
মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে:
তবে এই ট্রেন্ডের কিছু ঝুঁকিপূর্ণ দিকও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। আমাদের সংস্কৃতিতে ডাইনিং টেবিলে একসঙ্গে বসে খাওয়া মানে শুধুই পেট ভরানো নয়, বরং সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে একে অপরের সঙ্গে মনের কথা ভাগ করে নেওয়ার অন্যতম সেরা মুহূর্ত। খাবারের থালা আলাদা করতে গিয়ে যদি সেই আড্ডা ও গল্প করার অভ্যাসটাই হারিয়ে যায়, তবে অজান্তেই সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—খাদ্যাভ্যাস বা খাবারের থালা আলাদা হতেই পারে, কিন্তু সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় রাখতে অন্তত সপ্তাহের নির্দিষ্ট কিছু দিন বা ছুটিতে ডাইনিং টেবিলে একসঙ্গে বসে খাওয়া ও আড্ডা দেওয়া জরুরি। তবেই ভালোবাসার এই সুন্দর বাঁধন থাকবে একদম তরতাজা!
