কলকাতায় হোটেল অগ্নিকাণ্ড: দগ্ধ হয়ে নয়, বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইডের ধোঁয়ায় দম আটকে মৃত্যু ৯ জনের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: মির্জ়া গালিব স্ট্রিটের হোটেলে সাম্প্রতিক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে এক শিশু ও দুই মহিলাসহ মোট নয়জনের মৃত্যু আগুনের শিখায় দগ্ধ হয়ে হয়নি; বরং বিষাক্ত ধোঁয়ায় দম আটকে হয়েছে। কলকাতা পুলিশ মর্গে রাখা মৃতদেহগুলির প্রাথমিক ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
চিকিৎসকদের মতে, মৃতদেহগুলির শরীরে তেমন কোনো বড় ধরনের পোড়ার চিহ্ন নেই, তবে তাদের রক্তের রং কালচে গাঢ় লালের বদলে উজ্জ্বল ‘চেরি-রেড’ (Cherry-Red) বা গোলাপি-লাল হয়ে গেছে। এটি রক্তে বিপুল পরিমাণে ‘কার্বক্সি-হিমোগ্লোবিন’ তৈরির স্পষ্ট লক্ষণ। মূলত বদ্ধ স্থানে আগুন লাগলে অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে ‘কার্বন মনোক্সাইড’ নামক বর্ণহীন ও গন্ধহীন বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়। এই গ্যাস অক্সিজেনের তুলনায় ২০০ গুণ বেশি গতিতে রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে মিশে গিয়ে তা কার্বক্সি-হিমোগ্লোবিনে পরিণত করে। ফলে শরীর অক্সিজেন বহনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং কোষগুলি অক্সিজেনের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে।
আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রথমে মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা বা বিভ্রান্তি অনুভব করেন এবং অতি দ্রুত জ্ঞান হারিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই ঘটনার ৯ জন শিকারই ঘুমের মধ্যে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং আর জেগে উঠতে পারেননি। কেবল ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী সন্দীপ পাসোয়ানের শরীরে আংশিক পোড়ার দাগ পাওয়া গেছে, যা ফ্রিজের কমপ্রেসর ফাটার কারণে হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে; তবে তাঁর মৃত্যুর আসল কারণও এই বিষাক্ত ধোঁয়া।
ঘটনার চূড়ান্ত সত্যতা নিশ্চিত করতে মৃতদের রক্তের নমুনা বেলগাছিয়ার ফরেন্সিক সায়েন্সেস ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০১১ সালের আমরি (AMRI) হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডেও ঠিক একইভাবে ৯২ জন মানুষের প্রাণ কেড়েছিল এই নীরব ঘাতক কার্বন মনোক্সাইড।
