E20 পেট্রোলের দাপটে চিনির বাজারে আগুন! উৎসবের আগেই কি সাধারণের পকেটে টান? – এবেলা

E20 পেট্রোলের দাপটে চিনির বাজারে আগুন! উৎসবের আগেই কি সাধারণের পকেটে টান? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতের E20 পেট্রোল (২০% ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি) প্রস্তুতের আগ্রাসী লক্ষ্যমাত্রা এবার সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের রান্নাঘরে। চিনি উৎপাদন ও সরবরাহে টান পড়ায় দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যে চিনি রফতানিতে কড়াকড়ি আরোপ করলেও লাগাম টানা যায়নি—রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে চিনির দাম। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়া রোধ করতে এবার বিদেশ থেকে চিনি আমদানির পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের নেপথ্যে রয়েছে আখের সিংহভাগ অংশ ইথানল উৎপাদনের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ঘাটতি মেটাতে সরকার চিনির ওপর থাকা ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে।

সামনেই উৎসবের মরসুম, যখন ঘরে ঘরে মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। কিন্তু জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে গিয়ে খাদ্যপণ্যের দামে যে আগুন লেগেছে, তাতে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। অল ইন্ডিয়া ডিস্টিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (AIDA)-এর তথ্যমতে, দেশের ডিস্টিলারিগুলিতে ইথানল উৎপাদনের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশই আসে আখ থেকে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের পাইকারি ও খুচরো বাজারে:

  • পাইকারি বাজার: মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে চিনির পাইকারি দর এক মাসেই প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০০ কেজিতে ৫,৩৫০ টাকায় ঠেকেছে।
  • খুচরো বাজার: পাঞ্জাবে প্রতি কেজি চিনির দাম ছুঁয়েছে প্রায় ৬৫ টাকা। মুম্বই ও ভোপালের মতো বড় শহরগুলিতে খুচরো দাম বিকোচ্ছে ৫৮ থেকে ৬৩ টাকায়।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশবান্ধব ইথানল নীতি নিশ্চিতভাবেই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার ফলে যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের দাম সাধারণ মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে না চলে যায়। উৎসবের আগে চিনির এই চড়া দাম সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এখনই দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *