‘সবাই জানে বাধা কোথায়!’ সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার আর্জির মাঝেই পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল দিল্লি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC)-এর দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিয়ে ফের সরাসরি পাকিস্তানকে নিশানা করল ভারত। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, আঞ্চলিক সহযোগিতায় ভারত সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও একটি নির্দিষ্ট দেশের নীতি ও কার্যকলাপের জন্যই এই জোটের সমস্ত অগ্রগতি স্তব্ধ হয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে সার্কের পরবর্তী মহাসচিব পদে ভুটানের মনোনয়ন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ভারতের মূল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “সার্ক নিয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। এই সংস্থা কেন এগোতে পারছে না এবং এর পেছনে কোন দেশ দায়ী, তা সর্বজনবিদিত। তবে নতুন মহাসচিব পদের দায়িত্ব সংক্রান্ত বর্তমান প্রশাসনিক দিকটি আমি খতিয়ে দেখছি।”
‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সার্কের ১৬তম মহাসচিব হিসেবে দাশো সোনাম তোপগায়ের নাম প্রস্তাব করেছে ভুটান। আগামী অক্টোবরের শেষে বাংলাদেশের বর্তমান মহাসচিব গোলাম সারওয়ারের তিন বছরের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে। সার্কের নিয়ম অনুসারে, সদস্য দেশগুলির নামের ইংরেজি বর্ণানুক্রম (Alphabetical order) অনুযায়ী মহাসচিব পদ নির্ধারিত হয়, যা এবার ভুটানের প্রাপ্য। বাকি সাতটি সদস্য দেশ সম্মতি জানালেই অক্টোবরের শেষে দায়িত্ব নেবেন সোনাম তোপগায়ে। উল্লেখ্য, সার্কের আটটি সদস্য রাষ্ট্র হলো— ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান।
এর আগেও ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতার পক্ষে তারা বরাবরই কাজ করে আসছে। কিন্তু সীমান্তে পাকিস্তানের অব্যাহত সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ এবং কূটনৈতিক অসহযোগিতার কারণে আলোচনার দরজা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে দিল্লি। সম্প্রতি আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও ইসলামাবাদের আগ্রাসী নীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অন্যদিকে, সার্কের এই দীর্ঘ স্থবিরতা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছে আঞ্চলিক অন্য দেশগুলিও। মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুইজ্জু সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার জোর আকুতি জানান। তিনি মতপার্থক্য ভুলে সদস্য দেশগুলিকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়ে প্রয়োজনে মালদ্বীপ মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা করেন। একইভাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে সার্ক সক্রিয় করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তবে ভারতের বার্তা পরিষ্কার— কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য প্রয়োজন সদিচ্ছা ও শান্তির পরিবেশ, যা পাকিস্তান বিনষ্ট করে চলেছে।
