বাড়ির সামনে মদ্যপানের প্রতিবাদ করাই কাল! ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন প্রাক্তন বিধায়কের আপ্তসহায়ক, ধৃত ৩ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রকাশ্যে মদ্যপানের প্রতিবাদ করায় উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ায় এক যুবককে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। নিহত যুবকের নাম শেখর চৌধুরী ওরফে বান্টি (৩০)। তিনি নোয়াপাড়া বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিংয়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নোয়াপাড়া বিধানসভা ক্ষেত্রের গারুলিয়া পুরসভা এলাকায় মা, স্ত্রী ও ছোট শিশুকন্যাকে নিয়ে থাকতেন বান্টি। গত বুধবার রাতে তাঁর বাড়ির পাশের একটি ক্লাবে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী জটলা পাকিয়ে প্রকাশ্য স্থানে মদ্যপান করছিল। বান্টি এর প্রতিবাদ করতেই বচসার সূত্রপাত হয়। বচসা চলাকালীন আচমকাই ওই দুষ্কৃতীরা চড়াও হয় তাঁর ওপর। অভিযোগ, অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাঁকে মারধর করার পর ইট দিয়ে তাঁর মাথা ও মুখ থেঁতলে দেওয়া হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ছুটে আসেন প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিং, তাঁর ছেলে ও প্রতিবেশীরা। পুলিশকে খবর দেওয়ার পাশাপাশি রক্তাক্ত বান্টিকে প্রথমে ব্যারাকপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। টানা কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে রবিবার গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার এই মৃত্যুর খবর ছড়াতেই এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার:
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। সেই ভিডিও ফুটেজের ওপর ভিত্তি করে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ দ্রুত অভিযানে নেমে বিকি চৌধুরী, আমান চৌধুরী ও পিন্টু চৌধুরী নামে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে এলাকায় আগে থেকেই বেআইনি মাদক বিক্রির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পেছনে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও এলাকা জুড়ে ক্ষোভ:
খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্য সরকারের পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। অন্যদিকে, এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও মাদক কারবার নিয়ে সরব হয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিং। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এলাকায় দিনদুপুরে কীভাবে এত মাদক বিক্রি হচ্ছে? পুলিশ কেন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না?” দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ মাদক কারবার চললেও পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরগরম নোয়াপাড়া।
