দূষণ কমলেই অলৌকিক বদল: কমবে ধোঁয়া, ঝড়ের গতিতে বাড়বে বাচ্চার ফুসফুসের ক্ষমতা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
যানবাহনের ধোঁয়া এবং রাস্তার ধুলোবালি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে শিশুদের ফুসফুসের গঠনে অভাবনীয় উন্নতি সম্ভব। বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট পাবলিক হেলথ’-এ প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এই ইতিবাচক তথ্য সামনে এসেছে। ভারতের মতো দেশের বড় শহরগুলোর জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং লুটন শহরের ৩,৪১৪ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে নিয়ে টানা ৫ বছর ধরে এই গবেষণা চালানো হয়। ২০১৯ সালে লন্ডনে নির্দিষ্ট মানের চেয়ে বেশি দূষণকারী যানবাহনের ওপর কঠোর ‘আল্ট্রা লো এমিশন জোন’ (ULEZ) বা প্রতিদিনের চার্জ সংক্রান্ত নিয়ম চালু করা হয়েছিল। গবেষকরা দেখেন, ইউএলইজেড চালুর পর লন্ডনের বাতাস দ্রুত পরিষ্কার হতে শুরু করে। এর ফলে লুটন শহরের শিশুদের তুলনায় লন্ডনের শিশুদের ফুসফুসের কার্যকারিতা প্রতি বছর প্রায় ১০ মিলিলিটার বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র চার বছরের মধ্যে দুই শহরের শিশুদের ফুসফুসের ক্ষমতার পার্থক্য পুরোপুরি মুছে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশবে ফুসফুসের সঠিক বিকাশ সারাজীবনের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থেকে সুরক্ষা দেয়। ভারতজুড়ে বাতাস দূষিত হওয়ার কারণে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে হাঁজল ও ফুসফুসের নানা ব্যাধি বাড়ছে। এমনকি ল্যানসেটের অন্য এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে বায়ুপ্রদূষণের কারণে বছরে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়।
লন্ডনের এই গবেষণা প্রমাণ করে যে কঠোর নীতি প্রণয়ন করে দূষণ কমাতে পারলে শিশুদের ফুসফুস দ্রুত সুস্থ ও সবল হয়ে ওঠে। দিল্লি, মুম্বই বা কলকাতার মতো শহরের জন্য এটি একটি বড় বার্তা। বৈদ্যুতিক যানবাহন বাড়ানো, উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ধুলোবালি কমানোর পদক্ষেপ কেবল পরিবেশ বাঁচানোর লড়াই নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।
