‘যে খায় চিনি, তারে জোগায় চিন্তামণি’: অগ্নিমূল্য বাজারেও মায়াপুর-নবদ্বীপে বজায় ভোগের স্বাদ – এবেলা

‘যে খায় চিনি, তারে জোগায় চিন্তামণি’: অগ্নিমূল্য বাজারেও মায়াপুর-নবদ্বীপে বজায় ভোগের স্বাদ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বর্তমানে চিনির দামের ঊর্ধ্বগতিতে হাঁসফাঁস অবস্থা মধ্যবিত্তের রান্নাঘর থেকে শুরু করে পাড়ার মিষ্টির দোকান—সর্বত্রই। চিনির নোনতা দামে সাধারণের কপালে ভাঁজ পড়লেও, মায়াপুর ও নবদ্বীপের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং মঠ-মন্দিরের চিত্রটা কিন্তু কিছুটা আলাদা। সেখানে চিনির দর বাড়লেও ভক্তদের জন্য শ্রীকৃষ্ণের নিত্যভোগের আয়োজনে খুব একটা আঁচ লাগেনি। লোকপ্রবাদ ‘যে খায় চিনি, তারে জোগায় চিন্তামণি’-কে সত্য প্রমাণিত করেই চলছে ভোগের হাঁড়ি।

মায়াপুর ইসকনের প্রায় দশটি আলাদা রান্নাঘরে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ দুধের পায়েস তৈরি হয়। ইসকনের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস জানান, বাজারে চিনির দাম বাড়লেও মহাপ্রভুর ভোগের পরিমাণে কোনও কাটছাঁট করা হয়নি। একই চিত্র নবদ্বীপের শ্রীঅদ্বৈত দাস বাবাজির মঠে কিংবা বলদেব বাড়িতেও। বলদেব বাড়ির কিশোর কৃষ্ণ গোস্বামীর স্পষ্ট কথা, “ভগবানকে ভোগ নিবেদনে কার্পণ্য করা যায় না।” অন্যদিকে, জগপুর চৈতন্য মঠে তো প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কেজি দুধের পায়েস তৈরি হয় হাজার হাজার ভক্তদের প্রসাদ বিতরণের জন্য।

তবে সব মন্দিরের ছবিটা একরকম নয়। বাজারদরের সাথে তাল মেলাতে কিছুটা সংযমের পথ বেছে নিয়েছে নবদ্বীপের মহাপ্রভু বাড়ি। সেখানকার সেবায়েত জয়ন্ত গোস্বামী জানান, আগে যেখানে প্রতিদিন ৫ কেজি দুধের পায়েস হতো, সেখানে এখন তা কমিয়ে ৩ থেকে ৩.৫ কেজি করা হয়েছে।

ভোগের পায়েসের গোপন রেসিপি: মহাপ্রভু বাড়ির রাঁধুনি প্রণব গোস্বামী জানালেন সেই ঐতিহ্যবাহী পায়েসের রেসিপি। ৫ কেজি দুধে লাগে ৮০০ গ্রাম চিনি, ১৫০ গ্রাম কাজুবাদাম, ১৫০ গ্রাম কিশমিশ, তেজপাতা ও এলাচ গুঁড়ো। ধীর আঁচে ফুটন্ত দুধে সর জমলে তাতে মেশানো হয় ঘিয়ে মাখা গোবিন্দভোগ চাল। চাল নরম হয়ে এলে একে একে কাজু, কিশমিশ ও তেজপাতা পড়ে। চাল ও দুধ একাকার হলে আঁচ কমিয়ে মেশানো হয় চিনি। নামানোর শেষ মুহূর্তে এলাচের গুঁড়ো ছড়িয়ে দিলেই তৈরি হয় সুবাসিত প্রসাদী পায়েস।

নবদ্বীপ ও মায়াপুরের আড়াইশোরও বেশি মঠ-মন্দিরে নিজ নিজ রীতিনীতি মেনে ভোগের হাঁড়ি ফুটছে। বাজারের আর্থিক অঙ্ক দিয়ে ভক্তির হিসেব মেলে না; তাই চিনির দাম বাড়লেও বিশ্বাসের মিষ্টিতে বিন্দুমাত্র ঘাটতি পড়েনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *