“মাসি, ধর্ষণ মানে কী?”— আর জি করের প্রশ্ন তোলা আসামের কিশোরী নিজেই এবার নৃশংসতার শিকার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 1, 202612:33 pm
আসামের নগাঁও জেলার ধিং এলাকায় ১৪ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের নারকীয় ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। গত ২২ আগস্ট টিউশন থেকে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে, ঘরের মাত্র এক কিলোমিটার দূরেই এই পাশবিক অত্যাচারের শিকার হয় মেয়েটি। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এই ঘটনার পেছনে লুকিয়ে আছে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক গল্প। ঘটনাটির ঠিক দু’দিন আগে কলকাতার আর জি কর কাণ্ডের খবর দেখে সরল মনে মাসিকে সে জিজ্ঞেস করেছিল, “মাসি, ধর্ষণ মানে কী?” নিয়তির নির্মম পরিহাসে ঠিক তার পরেই একই পাশবিকতার মুখোমুখি হতে হলো তাকে নিজেই। গুয়াহাটিতে থাকা বাবার আর্থিক অনটনের জন্য মাসির কাছে থেকে পড়াশোনা করছিল মেয়েটি। ভাগ্নির এই মর্মান্তিক পরিণতিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তাঁর মাসি।
তবে শরীরের ক্ষত আর মানসিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও কিশোরীর মনোবল একটুও ভাঙেনি। সে বড় হয়ে পুলিশ অফিসার (ডিএসপি) হওয়ার স্বপ্ন দেখে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যখন একজন মহিলা ডিএসপি তাঁকে দেখতে আসেন, শত কষ্টের মধ্যেও কিশোরী তাঁর সঙ্গে কথা বলে এবং মুখে মৃদু হাসি ফোটায়। মেয়েটি কিছুটা সুস্থ হলে তাকে নিরাপত্তার স্বার্থে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে পরিবার।
অন্যদিকে, এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে আসামজুড়ে দোষীদের কড়া শাস্তির দাবিতে তুমুল আন্দোলন চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মূল অভিযুক্ত তফাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে গেলে সে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে পুকুরে ঝাঁপ দেয় এবং জলতে ডুবে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের ধরতে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
