‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’ তদন্তে গড়িমসি! সুপ্রিম কোর্টে চরম ভর্ৎসনার মুখে ইডি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 1, 202612:33 pm
নয়াদিল্লি: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়ের আইনি জটিলতা অব্যাহত। সোমবার সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদনের শুনানিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-সহ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলছিল। শুনানির সময় ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’ সংস্থার প্রসঙ্গ উঠতেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির নিরপেক্ষতা ও তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত।
আদালতে ইডির পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, একটি রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’-এর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। এই মন্তব্যের পরই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পর্যবেক্ষণ জানান যে, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’-এর প্রসঙ্গ যত কম উত্থাপন করা হয়, তদন্তকারী সংস্থার জন্যই তা মঙ্গলজনক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কলকাতা হাইকোর্টের একাধিক নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে ইডির সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট। তদন্তের এই গতিহীনতা এবং আচমকা অতি-তৎপরতা নিরপেক্ষ তদন্তের পরিপন্থী।
অন্যদিকে, সুমিত রায়ের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ অভিযোগ করেন, তাঁর মক্কেলকে টানা ১১ দিন ধরে জেরা করা হলেও মূল অভিযোগ সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করা হয়নি, যা সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট। এই দাবি অস্বীকার করে সলিসিটর জেনারেল জানান, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ লক্ষ টাকা জমার তথ্য মূল দুর্নীতির একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র; এর পেছনে কোটি কোটি টাকার কালো টাকা জড়িত রয়েছে।
উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর, সুপ্রিম কোর্ট সুমিত রায়কে করা জিজ্ঞাসাবাদের সম্পূর্ণ লিখিত বিবরণী (ট্রান্সক্রিপ্ট) আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী সোমবারে এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে।
