প্রকৃতির তাণ্ডবেও কেন অনড় হিমাচলের এই বিশেষ ঘরবাড়ির কাঠামো? জেনে নিন আসল কারণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সাম্প্রতিক সময়ে হিমাচল প্রদেশ ও নেপালে বিধ্বংসী বন্যা, ভূমিধস এবং মেঘভাঙা বৃষ্টিতে শত শত আধুনিক বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও সেতু নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অথচ এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক তাণ্ডবের মধ্যেও সম্পূর্ণ অক্ষত রয়ে গেছে হিমাচলের বহু বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী কিছু বাড়ি। সোশ্যাল মিডিয়ায় হিমাচলের এই বিশেষ ঘরবাড়ির টিকে থাকার অদ্ভুত ক্ষমতা নিয়ে এখন ব্যাপক চর্চা চলছে।
হিমাচলের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে (বিশেষ করে চাম্বা ও কাংড়া উপত্যকায়) বহুকাল ধরে টিকে থাকা এই বিশেষ নির্মাণশৈলীর নাম ‘কাঠ কুনি’ (Kath Kuni) এবং ‘ধাজ্জি দেওয়ারি’ (Dhajji Dewari)।
কেন এই বাড়িগুলি বন্যা ও ভূমিকম্প রোধী?
- নমনীয় বা ফ্লেক্সিবল কাঠামো: আধুনিক বাড়ির মতো স্তম্ভ বা বিমের ওপর সরাসরি লম্বভাবে ভার চাপানো হয় না। কাঠ কুনি পদ্ধতিতে মোটা কাঠের বিম অনুভূমিকভাবে (Horizontal) সাজিয়ে ফ্রেম তৈরি করা হয় এবং তার মাঝে পাথর ভরা হয়। কাঠের এই সংযোগস্থলকে স্থানীয় ভাষায় ‘মানভি’ (Maanvi) বলে। এই নমনীয় কাঠামোর কারণে ভূমিকম্প বা প্রচণ্ড বাহ্যিক চাপ এলে এটি কিছুটা দোলে, কিন্তু হঠাৎ ভেঙে পড়ে না।
- ধাজ্জি দেওয়ারি পদ্ধতি: কাংড়া উপত্যকার ‘ধাজ্জি দেওয়ারি’ পদ্ধতিতে কাঠের ফ্রেমে ছোট ছোট পাথর ও মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। ফলে প্রবল কম্পনেও পুরো দেয়াল ধসে পড়ার ঝুঁকি কমে যায়।
- জল ও তুষার প্রতিরোধী ভিত: জল বা তুষারপাত থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির নিচে শক্ত আলগা পাথরের একটি উঁচু প্লিন্থ (Plinth) তৈরি করা হয়। সাথে থাকে ঢালু ছাদ, যা দিয়ে সহজেই বৃষ্টির জল গড়িয়ে নিচে নেমে যায়।
- আবহাওয়া উপযোগী: পুরু কাঠ, পাথর ও মাটির দেয়াল ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে তীব্র শীতেও ঘরের ভেতরে গরম অনুভূত হয় এবং প্রাকৃতিকভাবে বাতাস চলাচলের সুযোগ থাকে।
অবশ্য বাড়ি টিকে থাকা কতটা প্রাকৃতিক দুর্যোগের উৎপত্তিস্থল থেকে দূরত্ব এবং ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে, তা সত্ত্বেও প্রাচীন এই ‘কাঠ কুনি’ ও ‘ধাজ্জি দেওয়ারি’ স্থাপত্য প্রমাণ করে যে আধুনিক কংক্রিটের চেয়ে প্রাচীন কৌশল অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব এবং দুর্যোগ সহনশীল।
