সিম বিক্রির আড়ালে পাক গুপ্তচরবৃত্তি! বঙ্গে সক্রিয় চক্রান্তের তদন্তে এবার NIA – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে ‘প্রি-অ্যাক্টিভেটেড’ সিম কার্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানি গুপ্তচরবৃত্তির এক চাঞ্চল্যকর চক্রান্তের পর্দাফাঁস হয়েছে। রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF)-এর পর আন্তর্জাতিক যোগসূত্র ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তভার নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পরেই এই জঙ্গি ও গুপ্তচর নেটওয়ার্কের গভীর শিকড়ের তথ্য সামনে আসে।
পিংলা থেকে জাল বিস্তার ও বিপজ্জনক ছক
ঘটনার সূত্রপাত পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা এলাকা থেকে। সেখানকার বাসিন্দা গৌতম খাঁড়া একটি সিম কার্ডের দোকান চালাতেন। অভিযোগ, দোকানে আসা সাধারণ গ্রাহকদের অজান্তে তাঁদের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তিনি ভুয়ো নামে অতিরিক্ত সিম কার্ড সক্রিয় করতেন। এরপর সেই নম্বরগুলি পৌঁছে দেওয়া হতো তাঁর সহযোগী শেখ মুরসালিনের কাছে। মুরসালিন ওই নম্বরগুলি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-ঘনিষ্ঠ এজেন্টদের পাঠাতেন। সেই নম্বর দিয়ে বিদেশে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলা হতো। সিম কার্ডগুলি মুরসালিনের কাছে থাকায় হোয়াটসঅ্যাপের ওটিপি (OTP)-ও আসত তাঁর মোবাইলে। প্রতিটি ওটিপি পাকিস্তানি এজেন্টদের জানিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মুরসালিন ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতেন।
আন্তর্জাতিক যোগ ও অর্থ লেনদেন
গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, গত চার বছরে এই চক্রের মাধ্যমে প্রায় ৪০০টি সিম কার্ড সক্রিয় করা হয়েছিল। তদন্তে এই চক্রের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের প্রমাণও মিলেছে। অভিযুক্ত মুরসালিন একাধিকবার থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সফর করেছেন। তাঁর এই বিদেশ ভ্রমণের খরচ পাকিস্তানি এজেন্টরা বহন করেছিল কি না এবং তিনি পাকিস্তানেও গিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজ্যজুড়ে জালের বিস্তার ও এনআইএ-র তদন্ত
পিংলার পর মুর্শিদাবাদ এবং কোচবিহারে একই ধরনের সিম কার্ড সিন্ডিকেটের খোঁজ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত এক গভীর নেটওয়ার্ক। রাজ্যে এনআইএ-র স্থায়ী থানা চালু হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলির অন্যতম। পাকিস্তান থেকে কীভাবে টাকা আসত, কোন আন্তর্জাতিক রুটে সেই অর্থ পাচার হতো এবং এই চক্রের পেছনে আর কারা জড়িয়ে রয়েছে—সেই সমস্ত রহস্য উন্মোচনে তদন্ত আরও জোরদার করেছে এনআইএ।
