অনুমতি ছাড়াই ৫ তলা, ৩০ ঘরে ৭৫ বেড: দিল্লিতে মেসবাড়ি ভেঙে ট্র্যাজেডি, নেপথ্যে লাগামহীন অনিয়ম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লির সাউথ ক্যাম্পাসের সত্য নিকেতন এলাকায় একটি ৫০ বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ মেসবাড়ি ধসে পড়ে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ‘Hostel Daze’ নামে পরিচিত পাঁচতলা এই ভবনটিতে সুরক্ষা বিধি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ছাত্রদের পেইং গেস্ট (PG) হিসেবে রাখা হচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর একের পর এক নিয়মভঙ্গের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।
অনুমোদনহীন নির্মাণ ও বেসমেন্টের কাজ
দিল্লি পুরসভার (MCD) নিয়ম অনুযায়ী ওই এলাকায় সর্বোচ্চ ‘গ্রাউন্ড প্লাস এক তলা’ (দোতলা) নির্মাণের অনুমতি ছিল। অথচ বাড়িটির মালিক হরিরাম বনসল বেআইনিভাবে সেটিকে ‘গ্রাউন্ড প্লাস চার তলা’ (পাঁচতলা) বানিয়ে ফেলেন। শুধু তাই নয়, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বেসমেন্টে জল জমে থাকা সত্ত্বেও সেখানে অনুমোদনহীন খনন ও কাঠামোগত পরিবর্তনের কাজ চলছিল। রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ দুর্ঘটনা ঘটার সময়েও বেসমেন্টে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন।
ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছাত্রদের বসবাস
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় সত্য নিকেতন এলাকায় মেসে থাকার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। সেই সুযোগ নিয়ে মূল আবাসিক ভবনটিকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া হয়। আসাম্পূর্ণ নির্মাণকাজ ও চরম ঝুঁকির মধ্যেই চলতি বছরের অগস্ট মাস থেকে সেখানে ছাত্রদের থাকতে দেওয়া হচ্ছিল। প্রায় ৩০টি ঘরে ৭৫টি খাট বসিয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী রাখার ব্যবস্থা করা হয়, যা জরাজীর্ণ কাঠামোর ওপর বিপজ্জনক চাপ সৃষ্টি করেছিল।
আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর সাউথ ক্যাম্পাস থানায় বাড়ি মালিক হরিরাম বনসল ও অন্যদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন, গাফিলতি এবং আবাসিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে এফআইআর (FIR) রুজু করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর টনক নড়েছে প্রশাসনের। MCD চার তলার বেশি উঁচু বেআইনি নির্মাণ অবিলম্বে সিল করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, পাশের একটি বিপজ্জনক পিজি খালি করে সিল করা হয়েছে এবং ৩ দিনের মধ্যে তা ভেঙে ফেলার নোটিস দেওয়া হয়েছে। তবে এত পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনে বছরের পর বছর কীভাবে এমন বেআইনি কাজ চলছিল, তা নিয়ে পুরসভার নজরদারি ব্যবস্থার দিকেই বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৬ সালে দিল্লিতে একাধিক ভবন ধসের ঘটনা
চলতি ২০২৬ সালে দিল্লিতে একের পর এক ভবন ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে:
- মার্চ: কবির নগরে পোশাক তৈরির কারখানা ধসে ২ জনের মৃত্যু।
- এপ্রিল: মুস্তফাবাদে চারতলা ভবনের অংশ ধসে ১১ জনের মৃত্যু।
- মে: সাইদ-উল-আজাইবে বাণিজ্যিক ভবন ধসে ৬ জনের মৃত্যু।
- জুলাই: রোহিনী ও ওয়েলকামে পৃথক দুটি বাড়ি ধসে মোট ৯ জনের মৃত্যু।
নিয়ম ভাঙার পর সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে আগাম নজরদারি কেন চালানো হচ্ছে না— রবিবারের মর্মান্তিক ঘটনার পর এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে।
