‘হরমুজ বন্ধ করলেও নতিস্বীকার নয়’, আমেরিকাকে ইরানের কড়া হুঙ্কার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 13, 20267:34 am
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে আমেরিকাকে স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকা হরমুজ প্রণালীর জলপথ অবরুদ্ধ করলেও ইরান কোনোভাবেই নতিস্বীকার করবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো হামলা বা চাপের উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল ও জ্বালানি বাণিজ্য পথ এই হরমুজ প্রণালী। জলপথটি ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতসহ পুরো এশিয়ায়। পেজেশকিয়ান জানান, ইরান সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান চায়। হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে ওমানের পাশাপাশি আরব দেশগুলোর বিদেশমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (IMO)-র সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে আলোচনার প্রাথমিক শর্ত হিসেবে আমেরিকাকে ইরানের ওপর থেকে সমস্ত অবরোধ ও অবৈধ চাপ তুলে নিতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, হরমুজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই ইরানের একমাত্র বাণিজ্যপথ নয়।
আঞ্চলিক সংঘাতের দায় সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার ঘাড়েই চাপিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ইরান বা তার সহযোগী শক্তিগুলো যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই হিজবুল্লাহর মতো আঞ্চলিক মিত্ররা জবাব দিচ্ছে। মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি তোপ দাগেন।
এরই মধ্যে দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। সেখানে পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, অবাধ নৌ-চলাচল এবং ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বৈঠকে ভারত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ নিরাপদ রাখার ওপর জোর দিয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ইরানের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট—কূটনীতির দরজা খোলা থাকলেও কোনো প্রকার মার্কিন চাপের কাছে মাথানত করবে না তেহরান। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট কতটা দ্রুত লাঘব হয়।
