দেশের পেঁয়াজের রিমোট কন্ট্রোল নাসিকের হাতে! কেন এই জেলাকে ‘পেঁয়াজের রাজধানী’ বলা হয়? – এবেলা
September 14, 2026

এবেলা ডেস্কঃ
September 14, 20268:33 am
পেঁয়াজ ছাড়া ভারতীয় হেঁশেল একপ্রকার অচল! কিন্তু প্রতিদিনের রান্নায় অপরিহার্য এই আনাজটি কোথা থেকে আপনার রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছায়, তা কি কখনও ভেবেছেন? ভারতের পেঁয়াজ উৎপাদনের কথা উঠলেই সবার আগে মহারাষ্ট্রের নাসিকের নাম উঠে আসে। এই জেলাকেই সগর্বে ভারতের ‘পেঁয়াজের রাজধানী’ বলা হয়।
কিন্তু কেন নাসিককে এই তকমা দেওয়া হয়েছে? আর কেনই বা নাসিকের লাসালগাঁও বাজার গোটা দেশের পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করে? চলুন, জেনে নেওয়া যাক এর পেছনের ৫টি মূল কারণ:
- দেশের সিংহভাগ উৎপাদন: এপেডা (APEDA)-এর ২০২৪-২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের মোট পেঁয়াজের ৪৪.০৭ শতাংশই উৎপাদন করে মহারাষ্ট্র। আর এই বিপুল উৎপাদনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো নাসিক। এখানে কেবল চাষ নয়, ফসল সংরক্ষণ ও পরিবহণের এক অত্যাধুনিক পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে।
- দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার: নাসিক জেলার নিফাড তালুকায় অবস্থিত ‘লাসালগাঁও’ হলো ভারতের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের পাইকারি বাজার। প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসল এখানে নিলামের জন্য নিয়ে আসেন।
- দাম নির্ধারণের চাবিকাঠি: সারা দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে, তা মূলত এই লাসালগাঁও বাজারের ওপরই নির্ভর করে। প্রতিদিন বাজারে পেঁয়াজের জোগান, গুণমান এবং দেশজুড়ে তার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এখানকার নিলামেই সারা ভারতের পেঁয়াজের দাম স্থির হয়।
- বিশ্ববিখ্যাত লাল পেঁয়াজ ও ‘GI’ তকমা: নাসিকের বিশেষ জাতের লাল পেঁয়াজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এর অনন্য স্বাদ, রঙ ও দীর্ঘ স্থায়িত্বের কারণে লাসালগাঁওয়ের এই পেঁয়াজ বিশেষ ‘ভৌগোলিক নির্দেশক’ বা জিআই (GI) তকমা অর্জন করেছে।
- সুদৃঢ় বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক: লাসালগাঁওয়ের নিলাম কেন্দ্র থেকে পেঁয়াজ শুধু দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই পৌঁছায় না, আন্তর্জাতিক বাজারেও বিপুল পরিমাণে রফতানি হয়। এই বিস্তৃত ও শক্তিশালী বাণিজ্যিক সংযোগই লাসালগাঁওকে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে এক অপরিহার্য স্থান দিয়েছে।
এককথায়, বিপুল উৎপাদন, অত্যাধুনিক মজুতকরণ এবং সুশৃঙ্খল নিলাম ব্যবস্থার মেলবন্ধনই নাসিককে ভারতের অবিসংবাদিত ‘পেঁয়াজের রাজধানী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
