মাঝআকাশে ইঞ্জিনে বিপত্তি: কলকাতায় জরুরি অবতরণ আন্তর্জাতিক বিমানের, রক্ষা পেলেন ২৮০ আরোহী – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
September 14, 20266:33 pm
প্যারিস থেকে নিউ ক্যালিডোনিয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়া ‘এয়ার ক্যালিডোনিয়া’র (এয়ার কলিন) একটি যাত্রীবাহী বিমান মাঝআকাশে মারাত্মক যান্ত্রিক গোলযোগের মুখে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার দুপুরে কলকাতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে এয়ারবাস ৩৩০ বিমানটি। বিমানে থাকা ২৬৮ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু-সহ মোট ২৮০ জন আরোহীর প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ প্যারিস থেকে নিউ ক্যালিডোনিয়ার রাজধানী নুমেয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এসবি-৫০১ (SB-501) ফ্লাইটটি। মাঝপথে ব্যাঙ্ককে বিমানে জ্বালানি ভরার (রি-ফুয়েলিং) পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কলকাতার আকাশসীমা অতিক্রম করার সময়ে বিমানের ইঞ্জিনে আচমকা ত্রুটি ধরা পড়ে। বেগতিক বুঝে পাইলট সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি অবতরণের আবেদন জানান। ইমারজেন্সি ল্যান্ডিংয়ের নিয়ম মেনে আকাশে বেশ কয়েকবার চক্কর কেটে জ্বালানি ফেলে বিমানের ওজন কমানো হয়। এরপর রবিবার দুপুর নাগাদ নিরাপদে রানওয়ে স্পর্শ করে বিমানটি। অবতরণের পর সেটিকে ১১৫ নম্বর বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়।
অবতরণের পর বেশ কিছুক্ষণ যাত্রীরা বিমানের ভেতরেই আটকে ছিলেন। কলকাতায় সংশ্লিষ্ট এয়ারবাস ৩৩০ বিমানের নির্দিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার না থাকায় স্থানীয় টেকনিশিয়ানরা পরীক্ষা করলেও সমস্যা মেটেনি। শেষ পর্যন্ত বিকেল চারটে নাগাদ যাত্রীদের বিমান থেকে বের করে আনা হয়।
যেহেতু আরোহীদের সকলেই বিদেশি এবং তাঁদের কারও কাছে ভারতে প্রবেশের বৈধ ভিসা ছিল না, তাই তৈরি হয় আইনি জটিলতা। বিশেষ ব্যবস্থায় সোমবার ভোর চারটে পর্যন্ত কাজ চালিয়ে তাঁদের ‘টেম্পোরারি ইমিগ্রেশন পারমিট’ (Temporary Immigration Permit) দেওয়া হয়। এরপর তাঁদের শহরের একটি পাঁচতারা হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ার ক্যালিডোনিয়ার বিমান কলকাতায় অবতরণ করার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। বর্তমানে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারদের উড়িয়ে আনার ব্যবস্থা করছে। নুমেয়া থেকে কলকাতায় সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় ব্যাঙ্কক বা সিঙ্গাপুর হয়ে সেই বিশেষজ্ঞ দল কলকাতায় পৌঁছাবে। অথবা আটকে পড়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বিকল্প বিমান পাঠানো হতে পারে। ততদিন পর্যন্ত কলকাতার হোটেলেই দিন কাটাতে হচ্ছে ২৮০ জন বিদেশি যাত্রীকে।
