ল্যাব থেকে সরাসরি সমাজে! ৩৩তম রাজ্য বিজ্ঞান কংগ্রেসে ইতিহাস গড়ার উদ্যোগ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 17, 20268:08 am
গবেষণাগারের চার দেয়াল ডিঙিয়ে বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে শুরু হওয়া ৩৩তম রাজ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কংগ্রেসের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে উঠে এল এই বার্তা। আর এই আয়োজনেই তৈরি হলো এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত—বাংলায় প্রথমবার প্রকাশিত হলো বিজ্ঞানের গবেষণাপত্র, যা ঘিরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা।
১৯৯৪ সালে পথচলা শুরু করা এই বিজ্ঞান মঞ্চে এ বছর রেকর্ড সমাগম ঘটেছে। প্রথম দিনেই দেশ-বিদেশের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গবেষক ও শিক্ষার্থী মিলিয়ে প্রায় ৩,০০০ মানুষ ভিড় জমান। মাতৃভাষায় বিজ্ঞানকে ছড়িয়ে দিতে এ বারই প্রথম ১২টি বিষয়ের ২১৫টি গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপ ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষাতেও প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজ্যের নতুন পদক্ষেপ ও চুক্তি:
- কৃষ্ণনগরে অ্যাস্ট্রো পার্ক: কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর নদিয়ার কৃষ্ণনগরে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্স মিউজিয়ামের (NCSM) সহযোগিতায় গড়ে উঠছে একটি আধুনিক ‘অ্যাস্ট্রো পার্ক’।
- কালিম্পঙে বায়োটেক হাব: পাহাড়ের অনন্য জীববৈচিত্র্যকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সমৃদ্ধি আনতে কালিম্পঙে তৈরি হচ্ছে নতুন ‘বায়োটেক হাব’।
- গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা (MoU): সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত করতে আইআইটি খড়গপুরের সঙ্গে বিশেষ চুক্তি করেছে রাজ্য। এছাড়া দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল ম্যাপ এবং পঞ্চায়েত স্তরে রাজ্যের নিজস্ব মানচিত্র তৈরির জন্য ‘ন্যাটমো’-র (NATMO) সঙ্গেও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- মহাকাশ গবেষণার পাঠ: স্কুল ও উচ্চশিক্ষায় মহাকাশ বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করতে ইসরো (ISRO)-র সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছে রাজ্য সরকার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী স্বামী বিবেকানন্দের বাণী স্মরণ করিয়ে বলেন, বিজ্ঞানের সাফল্যকে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের বায়োটেকনোলজি অর্থনীতি ৩০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, বাংলাকেও সেখানে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে।
