প্রথাগত বৃষ্টি নয়, বাজ পড়ার ঘনঘটা! রাজস্থানে জারি হাই অ্যালার্ট – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
September 17, 202610:00 am
মরুভূমির আকাশে প্রকৃতির ভয়াল রূপ সুবিশাল থর মরুভূমির রুক্ষ আকাশে প্রকৃতির এক বিরল ও আতঙ্কজনক দৃশ্য সাক্ষী থাকছেন রাজস্থানবাসী। প্রথাগত বৃষ্টিপাতের বদলে উত্তর-পশ্চিম রাজস্থানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে আছড়ে পড়ছে একের পর এক অতি-তীব্র বজ্রপাত। স্থানীয়দের মতে, চোখের পলকে পুরো আকাশ ঝলসে ওঠার এই ঘটনা একেবারেই অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন।
কী কারণে এই প্রাকৃতিক তাণ্ডব? আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মূলে রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী এক ‘পশ্চিমী ঝঞ্ঝা’ (Western Disturbance)।
- জলীয় বাষ্পের অনুপ্রবেশ: দূর ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে উদ্ভূত এই আবহাওয়া ব্যবস্থাটি পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর-পশ্চিম ভারতের বায়ুমণ্ডলে বিপুল জলীয় বাষ্প নিয়ে প্রবেশ করেছে।
- মেঘের বিস্ফোরণ: বায়ুমণ্ডলীয় চরম অস্থিরতা, স্থানীয় উত্তাপ এবং আর্দ্রতার মেলবন্ধনে রাজস্থানের মরু জেলাগুলিতে দ্রুত তৈরি হচ্ছে প্রকাণ্ড ‘কিউমুলোনিম্বাস’ মেঘ। মেঘের ভেতরে ইলেকট্রিক চার্জ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলেই এমন বিধ্বংসী মেগাস্টর্ম তৈরি হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও প্রভাব জয়সালমের, বিকানের, বাড়েমের এবং শ্রীগঙ্গানগরের মতো গাছপালাহীন খোলা প্রান্তরে বজ্রপাতের প্রকোপ সবচেয়ে মারাত্মক।
- জীবনের ঝুঁকি: উন্মুক্ত মরুভূমিতে নিরাপদ আশ্রয় বা উঁচু গাছের অভাব থাকায় স্থানীয় অধিবাসী ও গবাদি পশুর জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
- পরিকাঠামো বিপর্যয়: হাই-ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন, ট্রান্সফরমার এবং মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারত আবহাওয়া বিভাগ (IMD) রাজস্থানে উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করেছে।
বজ্রপাতের মারাত্মক ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের খোলা মাঠে না যাওয়ার এবং ধাতব খুঁটি থেকে দূরে সুরক্ষিত আশ্রয়ে থাকার কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, পশ্চিমী ঝঞ্ঝাটি দুর্বল হয়ে পূর্ব দিকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত এই প্রাকৃতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
