নিজেদের বেলায় ছাড়, ভারতের রুশ তেলে ১০০% ট্যারিফের হুমকি! ট্রাম্পের আসল ছক কী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 18, 20267:18 am
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতকে বারবার চোখ রাঙাচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে সম্প্রতি একটি বিল পাস হয়েছে, যেখানে রুশ তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ বা শুল্ক বসানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলি নিজেরাই দেদারসে রুশ পণ্য কিনছে! তাহলে শুধু ভারতের বেলায় এত আপত্তি কেন?
নিজেদের বেলায় ছাড়, ভারতের বেলায় চাপ! আমেরিকার বাণিজ্য বিভাগের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে আমেরিকা নিজেই রাশিয়া থেকে প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫.৬% বেশি! সার, ইউরেনিয়াম থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাসায়নিক— আমেরিকার বাজারে অবাধে ঢুকছে।
পিছিয়ে নেই ইউরোপও। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন, নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলি এখনও রাশিয়ার LNG বা তরলীকৃত গ্যাস কিনছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট গ্যাস আমদানির ১২-১৩ শতাংশ এখনও রাশিয়া থেকেই আসে। অথচ, ভারত নিজেদের প্রয়োজনে তেল কিনলেই ওয়াশিংটনের অভিযোগ— এই টাকায় রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ চালাচ্ছে।
ভারত কেন রুশ তেল কিনছে? ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার জেরে রাশিয়া তুলনামূলক কম দামে এশিয়ায় তেল বিক্রি শুরু করে। ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সস্তায় অপরিশোধিত তেল কেনে। ভারতের সোজা কথা, দেশের সাধারণ মানুষকে পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি থেকে বাঁচাতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
ভারত তেল না কিনলে কী হত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত বা চিন যদি রাশিয়ার তেল না কিনত, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রবল ঘাটতি দেখা দিত। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হত, যার ধাক্কা সামলাতে হত গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকে। মজার বিষয় হল, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে হরমুজ প্রণালীর সংঘাতের সময় বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে খোদ আমেরিকাই ভারতকে রুশ তেল কেনায় ৩০ দিনের সাময়িক ছাড় দিয়েছিল!
নতুন বিলে আমেরিকার ছক কী? নতুন মার্কিন বিলে ১০০% ট্যারিফের খড়্গ ঝুলিয়ে মূলত ভারত ও চিনের মতো বড় ক্রেতাদের চাপে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। সামনেই ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা রয়েছে, তার আগে এই বিল নয়াদিল্লির উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে ভারত নিজেদের অবস্থানে অনড়। নয়াদিল্লির স্পষ্ট বার্তা— দেশের অর্থনীতি ও নাগরিকদের স্বার্থ মাথায় রেখেই জ্বালানি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখন দেখার, আমেরিকার এই দ্বিচারিতা ও শুল্ক-হুমকির মোকাবিলায় ভারত আগামী দিনে কী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়।
