‘আগে তো বাঁচার লড়াই!’ বানের জলে ডুবল ভুতনির শিক্ষা, ত্রাণের খোঁজে বই ফেলে ডিঙিতে খুদেরা – এবেলা
September 18, 2026

এবেলা ডেস্কঃ
September 18, 20269:18 am
মালদার ভুতনি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় চরম সংকটে লক্ষাধিক মানুষ। ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে গোটা এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা।
বইখাতা ভেসে গেছে জলে, মূল লক্ষ্য এখন স্রেফ বেঁচে থাকা
ভুতনির গোবরধনটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মণি মণ্ডল ও রাজু হালদারদের কষ্টের কথা শুনলে শিউরে উঠতে হয়। বন্যার তোড়ে বইপত্র ভেসে যাওয়ায় টানা ১৫ দিন ধরে পড়ালেখা বন্ধ। বাতিল করা হয়েছে ইউনিট টেস্ট। এখন সকালে ঘুম থেকে উঠেই তাদের প্রধান চিন্তা—আজ খাবার মিলবে তো?
খাবারের সন্ধানে ডিঙি নৌকায় খুদেরা
- ত্রাণের প্যাকেটের খোঁজ: সকাল হলেই মা-বাবার সাথে ডিঙি নৌকা নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হচ্ছে খাবারের খোঁজে। কাঠি বা বাঁশ দিয়ে নৌকা ঠেলতে দেখা যাচ্ছে খুদে পড়ুয়াদেরও।
- সহপাঠীদের একই প্রশ্ন: জলে অন্য নৌকায় সহপাঠীদের দেখা পেলে একটাই কথা—”আজ কোথায় ত্রাণ দিচ্ছে রে?”
বিদ্যুৎহীন অন্ধকার জীবন ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
- আশ্রয় কেন্দ্র: ভুতনির ৫২টি সরকারি স্কুলের মধ্যে অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ই এখন জলের তলায়। হাইস্কুল ও মাদ্রাসার ছাদগুলোতে গাদাগাদি করে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার দুর্গত পরিবার।
- অন্ধকারে পড়াশোনা আসাম্ভব: সন্ধে নামলেই এলাকা ডুবে যায় ঘুটঘুট অন্ধকারে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল চার্জ দেওয়া বা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই। কেরোসিন কেনার সামর্থ্য না থাকায় খড়ি জ্বালিয়ে আলো ও রান্নার ব্যবস্থা চলছে।
- শিক্ষকমহলের গভীর উদ্বেগ: ভুতনি চণ্ডীপুর হাইস্কুলের শিক্ষক প্রদীপ মণ্ডল জানান, এভাবে চলতে থাকলে এই শিক্ষার্থীরা অন্য অঞ্চলের থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়বে। প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বই-খাতা দিলেও, সারাদিন পেটের ভাত জোগাড়ের লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকা শিশুদের কাছে পড়াশোনা এখন নিছক বিলাসিতা।
