তিরুপতি লাড্ডু কাণ্ডে ইডির বিরাট সাফল্য, বিশাখাপত্তনমে গ্রেফতার ২৩০ কোটির ভেজাল ঘি চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 19, 20267:10 pm
অন্ধ্রপ্রদেশের বিশ্ববিখ্যাত তিরুমলা তিরুপতি মন্দিরের প্রসাদী লাড্ডু কেলেঙ্কারিতে এবার বড়সড় অগ্রগতি। লাড্ডু তৈরিতে খাঁটি ঘির বদলে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ও চর্বি মেশানোর অভিযোগে এই মহা-প্রতারণা চক্রের মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
ইডি সূত্রে খবর, বিশাখাপত্তনম থেকে গ্রেফতার হওয়া এই মূল অভিযুক্তের নাম কৈলাস চাঁদ মঙ্গলা। প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে তাঁকে বিশেষ আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছেন।
২৩০ কোটি টাকার প্রতারণার ফাঁদ
ইডির তদন্তে উঠে এসেছে চোখ কপালে তোলার মতো একাধিক বিস্ফোরক তথ্য:
- বিশাল অংকের কেলেঙ্কারি: ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তিরুমলা তিরুপতি দেবস্থানমে (TTD) প্রায় ২৩০ কোটি টাকার ভেজাল ঘি সরবরাহ করা হয়েছিল।
- মূল কারিগর: ‘সুকৃতি ফুডস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর সঙ্গে যুক্ত কৈলাস চাঁদ মঙ্গলা একাই প্রায় ৯৬ কোটি টাকার ভুয়ো ঘি তৈরি করেছিলেন।
- ভুয়ো লেবেলিং: আসল গরুর দুধের ঘির পরিবর্তে ‘অ্যাগমার্ক স্পেশাল গ্রেড’ (Agmark Special Grade)-এর নকল লেবেল লাগিয়ে মন্দিরে এই বিষাক্ত মিশ্রণ পাঠানো হতো।
কী মিশিয়ে তৈরি হতো এই ‘নকল’ ঘি?
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, বিশুদ্ধ দুধের বিন্দুমাত্র ছোঁয়া ছাড়াই কারখানায় রাসায়নিকের মারাত্মক মিশ্রণে তৈরি হতো এই ঘি:
- রিফাইনড পাম অয়েল, পাম কার্নেল অয়েল ও পামোলিন
- বিষাক্ত কেমিক্যাল MG-90
- মনোগ্লিসারাইডস, Myvacet Soft 400 এবং অ্যাসিটিক অ্যাসিড এস্টার
- বিভিন্ন ভেজিটেবল অয়েল ও কেমিক্যাল মিশিয়ে কৃত্রিমভাবে খাঁটি ঘির গন্ধ ও রং তৈরি করা হতো।
রাঘববোয়াল ডেয়ারি সংস্থাগুলোর নাম প্রকাশ্যে
সিবিআই ও ইডির যৌথ তদন্তে একাধিক নামী ডেয়ারি ও সাপ্লাই সংস্থার যোগসূত্র স্পষ্ট হয়েছে:
- ভোলেবাবা ডেয়ারি: উত্তরাখণ্ডের এই সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ভেজাল ঘি সরবরাহ করে আসছিল।
- অন্যান্য যুক্ত সংস্থা: শ্রী বৈষ্ণবী ডেয়ারি স্পেশালিটিজ, মালগঙ্গা মিল্ক অ্যান্ড অ্যাগ্রো এবং এআর ডেয়ারি ফুডস।
কৈলাস চাঁদ মঙ্গলা কাঁচামাল জোগাড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ডেয়ারি সংস্থার মাধ্যমে তিরুপতি মন্দিরে ঘি পৌঁছানোর পুরো সিন্ডিকেটটি ব্যাকগ্রাউন্ডে থেকে পরিচালনা করতেন। ইডির এই পদক্ষেপের পর দেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় ও স্পর্শকাতর কেলেঙ্কারির শিকড় কতটা গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে, তা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
