‘বাংলায় চলছেটা কী?’ রক্তাক্ত হুমায়ুন কবীরের ছবি পোস্ট করে সোচ্চার মহুয়া মৈত্র! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 23, 20268:12 am
কলকাতা: পার্টি অফিস দখল এবং ডেপুটেশন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুকুন্দপুর ও পূর্ব যাদবপুর থানা চত্বর। তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে দফায় দফায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে এলাকা একপ্রকার রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তৃণমূল নেতা, প্রাক্তন আইপিএস তথা প্রাক্তন মন্ত্রী হুমায়ুন কবীর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ফুঁসে উঠলেন মহুয়া মৈত্র ঘটনার পরপরই নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে রক্তাক্ত হুমায়ুন কবীরের একটি ছবি পোস্ট করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লেখেন, “বাংলায় আসলে কী চলছে? পূর্ব যাদবপুর থানার গেটের সামনে বিজেপি দুষ্কৃতীরা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালাল, আর ৫০ জন পুলিশকর্মী নিছক দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন!” তাঁর আরও অভিযোগ, রক্তাক্ত অবস্থায় হুমায়ুন কবীর থানার ভেতর আটকে থাকা অবস্থাতেও দুষ্কৃতীরা থানার গেট ভাঙার চেষ্টা চালায়।
কীভাবে শুরু এই তাণ্ডব? সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিকেলে যাদবপুরে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের বাড়িতে হামলা এবং মুকুন্দপুরের অশান্তির প্রতিবাদে মিছিল ও পূর্ব যাদবপুর থানায় ডেপুটেশনের আয়োজন করেন তৃণমূল কর্মীরা। মিছিল চলাকালীন এক যুবকের বাধাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। বিজেপির পাল্টা দাবি, তৃণমূলের দিক থেকেই প্রথম কটূক্তি ও অপশব্দ ব্যবহার করে পরিবেশ উত্তপ্ত করা হয়েছিল।
রাত ৮টা নাগাদ তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও হুমায়ুন কবীর থানায় পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। বাইরে বিজেপি কর্মীদের জমায়েত বাড়ে এবং দু’পক্ষের ধস্তাধস্তিতে মুখে গুরুতর চোট পান হুমায়ুন কবীর। আঘাত গুরুতর হওয়ায় পুলিশ দ্রুত তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
বিজেপি-তৃণমূল কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার মুখ্য সচেতক ডেরেক ও ব্রায়েন। তাঁর অভিযোগ, শাসকদলের অন্যতম পরিচিত মুখ উপাসনা চৌধুরীকেও মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে এবং পুলিশ সেই সময় সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ছিল।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের দাবি, রাজনৈতিক সুবিধা পেতেই তৃণমূল কর্মীরা এলাকায় অশান্তি ছড়াচ্ছে এবং মিথ্যা রটাচ্ছে। ঘটনার পর থেকে গোটা মুকুন্দপুর ও পূর্ব যাদবপুর চত্বরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
